আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সদস্যপদ পেয়েছে আফগানিস্তান। সার্ক সদস্য ও যুদ্ধবিধ্বস্ত বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশটির সদস্যপদ বৃহস্পতিবার কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে সংস্থাটির মন্ত্রী পর্যায়ের দশম সম্মেলনে অনুমোদন করা হয়।
সম্মেলনে আফগানিস্তানের উপপ্রধান নির্বাহী মোহাম্মাদ খান রহমানি বলেন, বাণিজ্যভিত্তিক উন্নয়ন নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে, বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে। এরফলে দারিদ্র দূর হবে, সমৃদ্ধি আসবে। তিনি আরো বলেন, চরমপন্থা কমিয়ে আনা ও আঞ্চলিক শান্তি এবং নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠাতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংস্থাটিতে আফগানিস্তানের আনুষ্ঠানিক সদস্যপদপ্রাপ্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন ডব্লিউটিওর মহাপরিচালক রবার্তো আজাভেদো। দশকেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধে আফগানিস্তানের অধিকাংশ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে, নিরাপত্তাহীনতা ও দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন এবং লাখ লাখ আফগান শরণার্থীতে পরিণত হয়েছেন।
১৯৭০ এর দশকে বিশ্বে শুকনো ফলের বাজারের ১০ ভাগই ছিল আফগানিস্তানের দখলে। মূলত আমদানিনির্ভর অর্থনীতির দেশ আফগানিস্তান বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক সহায়তায় টিকে রয়েছে। বিশ্বের স্বল্পোন্নত দেশগুলোর একটি আফগানিস্তান।
দেশটির সরকার অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে ধারাবাহিক সংস্কারের উচ্চাভিলাষী অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
কিন্তু অক্টোবরে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিশ্ব ব্যাংক হুঁশিয়ারি দিয়েছে, সরকারের সংস্কার উদ্যোগের ফল পেতে সময় লাগবে। পাশাপাশি প্রশাসন নাজুক নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে পারবে কিনা তাও এখনো পরিষ্কার নয়। প্রসঙ্গত, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্যপদের জন্য ২০০৪ সালে আফগানিস্তান আবেদন করেছিল। রয়টার্স।