‘মিত্রবাহিনীকে ফেরাতে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা ঐতিহাসিক’

 
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের পর মিত্রবাহিনীকে নিজের দেশে ফেরাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘ঐতিহাসিক’ ভূমিকা রেখেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আসম হান্নান শাহ।
 
রবিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে স্বাধীনতা ফোরামের উদ্যোগে ‘বিজয় দিবসের অঙ্গীকার ও চলমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
 
হান্নান শাহ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের শেষে যখন বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশে ফিরে আসলেন, উনি এই জাতির জন্য সবচেয়ে বড় উপকার যেটি করে গেলেন, সেটি যুদ্ধের পরপরই। সেটা হল উনি উনার ব্যক্তিত্ব দিয়ে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর (ইন্দিরা গান্ধী) কাছ থেকে আশ্বাস বা প্রতিশ্রুতি নিয়ে নিলেন কত দ্রুত ভারতীয় বাহিনী এখান থেকে চলে যাবেন।
 
ভারতীয় বাহিনী বাংলাদেশে থেকে গেলে দেশের অবস্থা কাশ্মিরের মতো হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে এই সাবেক সেনা কর্মকর্তা বলেন, যদি ভারতীয় বাহিনী এখানে থাকত এটা আবার কাশ্মীরের মতো একটা রাজ্য হয়ে যেত।
 
তিনি বলেন, জাতি তো এমনিতে কৃতজ্ঞ বঙ্গবন্ধুর কাছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, সেদিন যদি উনি এটা না করতেন তাহলে কী অবস্থা হতো। ভয়াবহ অবস্থা হয়ে যেত।
 
শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ সম্বোধন করে আ স ম হান্নান শাহ বলেন, যিনি গণতন্ত্রের মানসপুত্র, সেই বঙ্গবন্ধুকে দেখলাম যিনি আইয়ুব খান, মোনয়েম খান, ইয়াহিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন; যুদ্ধ ক্ষেত্রে নয়, বুদ্ধি দিয়ে রাজনীতি দিয়ে তিনি যুদ্ধ করেছেন।
 
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে হান্নান শাহ বলেন, আজকে কী অবস্থা! এখন রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে পরিস্থিতিটা আরো খারাপ। ন্যায় বিচারের জন্য আমাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে।
 
মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় বাহিনীর সহযোগিতার কথা ‍উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তি চেয়েছিলাম একটি সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য। যারা লেখাপড়া করেন, দেখবেন, আমরা কোথাও কিন্তু স্বাধীনতা চাইনি। আমরা অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলাম। আমাদের ওপর পাকিস্তানিরা চাপিয়ে দিয়েছিল বলেই তা প্রতিরোধ করতে গিয়ে আমরা মিত্র দেশের সহযোগিতা পেয়েছি। সেই সহায়তা নিয়ে আমরা যুদ্ধে বিজয়ী হয়েছি।
 
তিনি বলেন, একজন সাবেক সামরিক অফিসার হিসেবে বলছি, সেই সময়ে মিত্র বাহিনী না থাকলে কেবল মুক্তিযোদ্ধাদের এই দেশ স্বাধীন করতে ৫ থেকে আরো ৭ বছর লাগত।
 
সংগঠনের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ, নয়া দিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার পারভেজ আহমেদ, জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি আবুল হাশেম রানা, জিয়া নাগরিক ফোরামের সভাপতি মিয়া মুহাম্মদ আনোয়ার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।