বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ২০১৪ সালের হিসেবে ৭০ দশমিক ৭ বছরে উন্নীত হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষের গড় আয়ু ৬৯ দশমিক ১ বছর। আর নারীদের গড় আয়ু দাঁড়িয়েছে ৭১ দশমিক ৬ বছরে। ২০১৩ সালে বাংলাদেশে গড় আয়ু ছিল ৭০ দশমিক ৪ বছর। চার বছরের ব্যবধানে গড় আয়ু বেড়েছে ৩ বছর। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ সব বিষয় উঠে এসেছে। গড় আয়ু বৃদ্ধি ছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি সূচকে বাংলাদেশের পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। গতকাল রবিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মনিটরিং দ্যা ভাইটাল সিচ্যুয়েশন অব ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস অব বাংলাদেশ (এমএসভিএসবি) শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। বিবিএস মহাপরিচালক আব্দুল ওয়াজেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা সচিব মোহাম্মদ সফিকুল আযম। বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামসুল আলম, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব কানিজ ফাতেমা, ইউনিসেফের অফিসার ইনচার্জ অনুরাধা নারায়ণ।
প্রতিবেদনের ফলাফল উপস্থাপন করেন এমএসভিএসবি প্রকল্পের পরিচালক এ কে এম আশরাফুল হক। প্রতিবেদনে জন্ম, মৃত্যু, গড় আয়ু, বিবাহ, তালাক, শিক্ষা, চিকিত্সা, বিদ্যুতের সুবিধা, পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাসহ মোট ১২টি বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী গত তিন বছরে নারী-পুরুষের ব্যবধান কমেছে। ২০০২-২০১৪ এ সময়ে অপরের উপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা প্রায় ২৯% কমেছে। তবে বাংলাদেশের মহিলারা এখনও উচ্চমাত্রায় পুরুষ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে শতকরা ৮৭ দশমিক ৮ ভাগ পরিবারের খানা প্রধান হচ্ছে পুরুষ। বয়স্ক শিক্ষার হার বেড়েছে। ২০১০ সালে যা ছিল ৫৮ দশমিক ৬ শতাংশ, এ হার ২০১৪ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে শতকরা ৬১ দশমিক ৪ ভাগে। জরিপের ফলাফল থেকে দেখা যায় গ্রামীণ জনসংখ্যার চেয়ে শহরের জনসংখ্যা প্রায় ৩০শতাংশ বেশি শিক্ষিত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের স্থূল জন্মহার প্রতি হাজারে ১৮ দশমিক ৯। জন্মশীলতার সবগুলো পরিমাপ তুলনা করলে দেখা যায় গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশে জন্মের হার প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে স্থূল মরণশীলতা প্রতি হাজারে ৫ দশমিক ২ জন যা পল্লী এলাকায় ৫ দশমিক ৬ জন এবং শহর এলাকায় ৪ দশমিক ১। শিশু মৃত্যু হার ২০১০ সালে ছিল প্রতি হাজারে ৩৬ এবং এই হার ২০১৪ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ৩০ এ। পাঁচ বছরের নিচে শিশু মৃত্যুর হারের ক্ষেত্রে একই প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। ২০১০ সালে এর হার ছিল ৪৭ জন প্রতি হাজার জীবিত জন্মের ক্ষেত্রে যা ২০১৪ সালে হয়েছে ৩৮। মরণশীলতার প্রতিটি সূচক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় পুরুষেরা নারীদের চেয়ে বেশি হারে মারা যাচ্ছে। শহরের তুলনায় পল্লীতে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি। গত পাঁচ বছরের পুরুষের বিবাহের গড় বয়স ২ বছর বেড়েছে এবং মহিলাদের বিবাহের গড় বয়স স্থিতি অবস্থায় রয়েছে। প্রতি হাজার জনসংখ্যার ক্ষেত্রে পল্লী এলাকায় আগমনের হারের (২৯.৪ জন) তুলনায় শহর এলাকায় আগমনের হার (৭৭.১ জন) অনেক বেশি। গত পাঁঁচ বছরে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের হার বেশ বেড়েছে। ২০১০ সালে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের হার ছিল ৫৬.৭ শতাংশ। ২০১৪ সালে এই হার হয়েছে ৬২.২ শতাংশ। ২০১৪ সালের হিসেব অনুযায়ী প্রতি হাজারে ৯ জন মানুষ কোনো না কোনোভাবে প্রতিবন্ধী। মহিলাদের চেয়ে পুরুষদের মধ্যে প্রতিবন্ধীর হার বেশি। প্রতিবেদনে দেখা যায় মাত্র ২১ ভাগ মহিলা এইচআইভি/এইডস সংক্রমণের সকল পদ্ধতি সম্পর্কে জানে। এইচআইভি/এইডস সংক্রমণের অন্তত একটি পদ্ধতি শতকরা ৬১.৫ ভাগ মহিলা জানে।