দেশজুড়ে সতর্ক আওয়ামী লীগ

দেশজুড়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আওয়ামী লীগ। আগামী ৩০ ডিসেম্বর ২৩৪ পৌরসভায় নির্বাচন এবং ৫ জানুয়ারি তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির দিনকে কেন্দ্র করে দেশে কেউ যাতে ন্যূনতম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করতে না পারে সেজন্য আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি। পৌর নির্বাচন নিয়ে সম্প্রতি বিএনপি নেতাদের ধারাবাহিকভাবে উস্কানিমূলক বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ আশঙ্কা করছে যে, নির্বাচনে জয়-পরাজয় যাই হোক না কেন বিএনপি মিথ্যাচারের মাধ্যমে আন্দোলনের নামে ফের সহিংসতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। এ কারণে দলীয় নেতাকর্মীসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকলকে সজাগ ও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পৌরসভা নির্বাচনে প্রচারণায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত ৭ বিভাগের সাতটি প্রচারণা টিম তৃণমূলে গিয়ে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি দেশবাসী ও নেতাকর্মীদেরকে সজাগ থাকারও আহ্বান জানাচ্ছে।
 
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি। বিএনপি-জামায়াতের সহিংস তাণ্ডবের মধ্য দিয়েও অনুষ্ঠিত হয় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলন আর পেট্রোল বোমায় মানুষ মারার পৈশাচিক বর্বরতার মধ্যেও সংবিধান রক্ষার ধারাবাহিকতায় নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার। তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির দিনটি গণতন্ত্রের বিজয় দিবস হিসেবে পালন করে আসছে আওয়ামী লীগ। এবার দিবসটিতে রাজধানীতে বড় রকমের শোডাউন করবে আওয়ামী লীগ। শুধু রাজধানী নয়, সারা দেশের ৩শ’ নির্বাচনী এলাকাতেই ওই দিন বিকালে একযোগে আনন্দ মিছিল, বর্ণাঢ্য বিজয় শোভাযাত্রা ও সমাবেশের মাধ্যমে মাঠ দখলে রাখার চিন্তাভাবনা রয়েছে।
 
অপরদিকে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করে সহিংস আন্দোলন গড়ে তোলে বিএনপি। সরকার উত্খাতের আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার মাধ্যমে দলটির শক্তি ক্ষয় হয়, দুর্বল হয়ে পড়ে। জ্বালাও-পোড়াওয়ের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে অভাবনীয় এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় বিএনপি। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, পরস্পরের ব্যাপারে অবিশ্বাস, হামলা-মামলায় তৃণমূলে ভয়ভীতি-সব মিলিয়ে বড় ধরনের প্রতিকূলতার মুখে দাঁড়িয়ে পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তারা। এমন প্রেক্ষাপটে আসছে ৫ জানুয়ারি। ইতিমধ্যে বিএনপির কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে আন্দোলনের হুমকিও দিয়েছেন। যদিও আওয়ামী লীগ মনে করছে, আন্দোলন করার ক্ষমতা বিএনপির নেই। তারপরও দেশজুড়ে সতর্ক থাকার সিদ্ধান্ত রয়েছে দলটির।
 
‘আন্দোলন নয়, নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারকে ঘায়েল করতে হবে’ মর্মে সম্প্রতি বিএনপি নেত্রীর খালেদা জিয়ার দেয়া বক্তব্য তুলে ধরে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, খালেদা জিয়ার এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে পরিষ্কার হয়েছে যে, আন্দোলন করে সরকারের বিরুদ্ধে কিছু করার ক্ষমতা তাদের নেই। কারণ তারা বহু আন্দোলন করেছেন। এখন ব্যর্থ হয়ে নিজের মনে সান্ত্বনা খোঁজার জন্য নির্বাচনের মাধ্যমে কিছু অর্জন করা যায় কি না, সেই চেষ্টা করছেন। গতকাল সোমবার বিকালে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের পক্ষে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
 
‘নির্বাচন কমিশন এক তরফা আচরণ করছে’
 

সংবাদ সম্মেলনে মাহবুব-উল-আলম হানিফ আরো বলেন, নির্বাচন কমিশন এক তরফা আচরণ করছে। রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি ক্ষমতার বাইরে আছে বিধায় তাদের প্রতি সহানুভূতি নিয়ে সরকার দলের প্রতি খড়গ হস্ত চালানোর কোনো যৌক্তিকতা আছে বলে আমরা মনে করি না। গত কয়েকদিনে আমরা দেখেছি, বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচনী আচরণবিধির অভিযোগে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। আর এটা  অনেকটাই একতরফা হয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। হানিফ বলেন, প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে অশালীন ভাষায় খালেদা জিয়া কথা বলেছেন। কোনো সভ্য দেশে এই ধরনের ভাষা কেবল খালেদা জিয়ার মুখেই মানায়। দেশবাসী মনে করে তার এ বক্তব্য মানসিক ভারসাম্যহীন উম্মাদের প্রমাদ ছাড়া আর কিছুই নয়। তাই দ্রুত তার চিকিত্সা করে সুস্থতা নিশ্চিত করা দরকার।