এস এম আসলাম তালুকদার, দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে মান্না নামেই পরিচিত। তিনি তার সুদীর্ঘ চলচ্চিত্র জীবনে প্রায় দুইশ’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি এই পৃথিবীর সকলের মায়া ত্যাগ করে না ফেরার দেশে পারি জমান বাংলা চলচ্চিত্রের এই জনপ্রিয় নায়ক ও প্রযোজক। মৃত্যুর পর তাকে মানুষের মাঝে বাঁচিয়ে রাখার প্রয়াসে পারিবারিক উদ্যোগে খোলা হয় মান্না ফাইন্ডেশন। সম্প্রতি মান্না ফাউন্ডেশনের সাথে সবধরনের কার্যক্রমে একসাথে পথচলার ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। বর্তমানে ফাউন্ডেশনটির অবস্থান ও নায়ক মান্না কেন্দ্রিক কার্যক্রমের সার্বিক দিক নিয়ে বিনোদন প্রতিদিনের সাথে কথা বলেছেন মান্না ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন নায়ক মান্নার সহধর্মীনি শেলী মান্না।
মান্না ফাউন্ডেশনের সার্বিক কার্যক্রম প্রসঙ্গে জানতে চাই—
২০০৯ সাল থেকে আমাদের ফাউন্ডেশনটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। সেই থেকে অনেক কার্যক্রমের চিন্তা থাকলেও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে আমরা সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারিনি। এরমধ্যে বেশকিছু সফল সমাজ সেবামূলক কার্যক্রম আমরা সম্পন্ন করেছি। সেই ধারাবাহিকতাকেই আরও একটু শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যেই আমাদের এবারের কর্মসূচি। এছাড়া সারাদেশব্যাপী এই ফাউন্ডেশনের অঙ্গ-সংগঠনের উদ্যোগে অনেক সমাজ সেবামূলক কার্যক্রম সংগঠিত হয়েছে। মূলত, ফাউন্ডেশনটির সব কার্যক্রমের উদ্দেশ্যই হচ্ছে, মানুষের মনে মান্নার মতো একজন বড় হূদয়বান ব্যক্তিকে আজীবন বাঁচিয়ে রাখা।
IMG0
সেক্ষেত্রে আপনার কি মনে হয় যে উদ্দেশ্যে ফাউন্ডেশনটি যাত্রা শুরু করেছিল সেটি সফল?
আমরা এখনও আমাদের মূল লক্ষ্যের দিকে পৌঁছাতে পারিনি। তবে যতটা সম্ভব চেষ্টা করেছি। সেক্ষেত্রে আমি বলবো আমরা পুরোপুরিভাবে সফল না হলেও সফলতার পথেই আছি।
‘মান্না উৎসব’এর প্রস্তুতি প্রসঙ্গে বলুন—
মান্না ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরুর পর থেকেই আমরা এই ধরনের একটি উদ্যোগের কথা চিন্তা-ভাবনা করছিলাম। কিন্তু অনেক বাঁধার সম্মুখীন হয়েছি। অবশেষে সকল বাঁধা আমরা কাটিয়ে উঠতে পেরেছি। আর তাই এই বছর ১ জানুয়ারি থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে মান্না উৎসবের যাত্রা শুরু হবে। উৎসবটি সকল শিল্পীদের একটি মিলনমেলা হবে বলে আমি আশা করছি। দেশের বাইরের শিল্পীদেরও আমরা আমন্ত্রণ জানিয়েছি। সবকিছু ঠিক থাকলে ওপার বাংলার ঋতুপর্ণা আসতে পারেন অনুষ্ঠানটিতে। এখন চলছে উৎসবটি সফল করার সব প্রস্তুতি। আর এই উদ্দেশ্যেই গত ২১ ডিসেম্বর আমরা একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলাম।
শিল্পীদের সহায়তায় ফাউন্ডেশন থেকে কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন?
আসলে শিল্পীদের নিয়েই আমাদের এই ফাউন্ডেশন। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিল্পীদের কথা শিল্পীরা ছাড়া আর কেউ ভাবে না। আর তাই তাদের নিয়েই আমাদের বেশ কয়েকটি কার্যক্রম রয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো তাদের নিয়ে একটি ফান্ডের ব্যবস্থা করা। অনেক সময় অনেক শিল্পী গুরুতর অসুস্থ থাকলে তাদেরকে হাত পাততে হয় দেশের মানুষের উদ্দেশ্যে। এই পরিস্থিতিতে যাতে তাদের পড়তে না হয় সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই উদ্যোগ।
ফাউন্ডেশনের কল্যাণে সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা কতটুকু?
এতোদিন ফাউন্ডেশনটি তার নিজেস্ব ফান্ড থেকেই সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। সেক্ষেত্রে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বলতে, আমরা এখনও সরকারের নিকট কোনো পদক্ষেপের উদ্দেশ্যে যাইনি। তবে আমার মনে হয় এখন সময় এসেছে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা চাওয়ার। আর বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা আছে আমাদের সাথে।
ফাউন্ডেশনটির সাথে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির একাত্বতা কেমন?
আমি আগেই বলেছি শিল্পীদের নিয়েই আমাদের এই ফাউন্ডেশন। সেক্ষেত্রে শিল্পী সমিতি আমাদের সাথে একাত্বতা ঘোষণা করেছে এটা খুবই বড় একটি বিষয়। এছাড়া ফাউন্ডেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে আছেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী। আর তার চিন্তা-ভাবনা আছে প্রতিবন্ধী শিশু ও গর্ভবতী মহিলাদের নিয়ে কিছু কাজ করার। সামনে হয়তো আমরা তাদের জন্য কোনো একটি কার্যক্রমের ঘোষণা দেবো।
নায়ক মান্নার রেখে যাওয়া প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘কৃতাঞ্জলি’র এখন কী অবস্থা?
কার্যক্রম বলতে এখনও পুরোনো চলচ্চিত্র নিয়েই চলছে। নতুন কোনো কাজ করা হচ্ছে না। তবে ইচ্ছে আছে সামনের বছর থেকে অন্তত একটি নতুন চলচ্চিত্র ও সেই সাথে কিছু মেগা সিরিয়ালের কাজ শুরু করার।