দক্ষিণ এশিয়ায় মানব উন্নয়ন সূচকে অগ্রগতি দেড় গুণ

গত তিন দশকে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে অনেক এগিয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো। তবে সে উন্নতি বড় অংশের মানুষকে পাশ কাটিয়ে গেছে। অর্থনীতির আকার বেড়ে প্রায় তিন গুণ হলেও মানব উন্নতির সূচকে অগ্রগতি হয়েছে দেড় গুণ। এখনও অনেক মানুষ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও লিঙ্গ সমতার বাইরে রয়ে গেছে।
 
গতকাল মঙ্গলবার দক্ষিণ এশিয়ায় মানব উন্নয়ন-২০১৫ শীর্ষক এক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তারা একথা বলেন। প্রতিবেদনটি তৈরি করে ‘মাহবুব উল হক হিউম্যান ডেভ্ল্পেমন্ট সেন্টার’। গত তিন বছর ধরে সেটি প্রকাশ করছে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভ্ল্পেমন্ট (বিআইজিডি)। মহাখালী ব্র্যাক সেন্টারে প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে মাহবুব উল হক হিউম্যান ডেভ্ল্পেমন্ট সেন্টারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এম সাইদুজ্জামান, ইউএনডিপির হিউম্যান ডেভ্ল্পেমন্ট রিপোর্ট অফিসের পরিচালক ড. সেলিম জাহান, বিআইজিডি নির্বাহী পরিচালক ড. সুলতান হাফিজ রহমান বক্তব্য রাখেন। ‘দক্ষিণ এশিয়ায় মানব উন্নয়ন-২০১৫’ প্রতিবেদনের এবারকার শিরোনাম ‘অর্থনীতি ও মানুষ’। প্রতিবেদনে ১৯৮০ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ায় অর্থনৈতিক ও মানুষের জীবনমানের উন্নতির তুলনামূলক পর্যালোচনা করা হয়।
 
এতে বলা হয়, ১৯৮০ সালে এ অঞ্চলের মানুষের মাথাপিছু আয় ছিল ২৯৯ ডলার। ২০১০ সালে তা তিন গুণেরও বেশি বেড়ে হয়েছে ৯৪০ ডলার। মানব উন্নয়ন সূচকে পয়েন্ট ০.৩৬৫ থেকে বেড়ে হয়েছে ০.৫৬২। অর্থাত্ আয় বাড়লেও সে হারে মানুষের জীবনমানের উন্নতি হয়নি।
 
ড. সেলিম জাহান বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি আর মানব উন্নয়ন এক কথা নয়। অর্থনৈতিক উন্নতি মানব উন্নয়নের একটি মাধ্যম। কিন্তু অর্থনৈতিক উন্নতি সবসময় মানব উন্নয়ন নিশ্চিত করে না। তিনি বলেন, আমাদের পড়ানো হতো কেকটা বড় হতে দাও, সবাই ভাগ পাবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে কেক বড় হলেই ভাগ মেলে না। সেখানে সমতা থাকতে হয়। বিশ্বের ৮০ শতাংশ সম্পদ ৬ শতাংশ মানুুষের দখলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক উন্নতিকে অবশ্যই মানুষের উন্নত জীবনে রূপান্তরিত করতে হবে। এটি এখন আর পুঁজিবাদ বা অন্যকোন ‘বাদে’র বিষয় নয়, এটি গণতন্ত্রের বিষয়। অর্থনৈতিক উন্নতির ভাগ অবশ্যই সবাইকে দিতে হবে।
 

এম সাইদুজ্জামান বলেন, এ অঞ্চলে অর্থনৈতিক উন্নতি মানুষকে পাশ কাটিয়ে গেছে। অর্থনীতি অনেক এগিয়েছে, তবে বড় অংশের মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়াই। অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করেন ইন্টারন্যাশনাল গ্রোথ সেন্টারের (আইজিসি) কান্ট্রি ইকনোমিস্ট ফারিয়া নাঈম।