বাংলাদেশে চলছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাঁতার প্রশিক্ষণ প্রকল্প

বাংলাদেশে প্রতি দিন গড়ে ৫০ টি শিশু পানিতে ডুবে মারা যায় যা দেশে ১ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। এই সমস্যা সমাধানে সরকার স্কুলের ছাত্রদের জন্য সাঁতার শিক্ষা বাধ্যতামূলক করে। প্রায় চার কোটি শিশুর সাঁতার শিক্ষার এই কর্মসূচি বিশ্বের মধ্যে বৃহত্তম। 
 
বাংলাদেশে প্রতিবছর ১৮ হাজার শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। নদী, বর্ষা ও বন্যার জন্য বিখ্যাত এই দেশের বেশিরভাগ শিশুই সাঁতার জানে না যা এই মৃত্যুর প্রধান কারণ। কিন্তু এই বছরের শুরুতে সরকার সব স্কুলগামী শিশুদের জন্য সাঁতার শিক্ষা বাধ্যতামূলক করে যা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গণ সাঁতার শিক্ষা কর্মসূচী। অস্ট্রেলিয়াতেও স্কুলগামী শিশুদের জন্য সাঁতার শিক্ষা বাধ্যতামূলক, কিন্তু বাংলাদেশের প্রকল্পটা সংখ্যার দিক দিয়ে সবচেয়ে বড়। এই বিশাল প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ফারহানা হক বলেন, আমরা পাঁচ থেকে সতের বছর বয়সী চার কোটি শিশুকে সাঁতার শেখানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি। আমি বিশ্বাস করি এটা বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাঁতার শিক্ষা কর্মসূচি।
 
দেশজুড়ে সুইমিং সেন্টারের অভাব থাকলেও নদীমাতৃক এই দেশেতো পুকুরের অভাব নেই। সরকার সেগুলোতে সাতার কর্মসূচি পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে বিদ্যালয়গুলোকে। ইউনিসেফও কৃত্রিম পুল বানিয়ে সহায়তা করছে।  ইউনিসেফের শিশু সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ অ্যামি ডেলেনভিল জানিয়েছেন, মেয়েদের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও রক্ষণশীল এই দেশে কেউ বাধার সৃষ্টি করছে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশে অনেক বেশি জলাধার থাকায় শিশুদের ডুবে মরার সংখ্যা অনেক বেশি। মানুষ এই প্রকল্পে অনেক খুশি। তারা জানে যে পানি কতটা বিপজ্জনক হতে পারে। 
 
শিশুদের সাঁতারের প্রশিক্ষণ দেয়ার পাশাপাশি কিশোরদের প্রশিক্ষক হিসেবে গড়ে তোলা চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে তারা পরবর্তীতে অন্যদের সাঁতার শেখাতে পারে।