দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম দেশ ব্রাজিলে ভূমিধসে কমপক্ষে ৪ জন প্রাণহানি ঘটেছে। এদিকে এ অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশে প্রবল বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যায় এ পর্যন্ত কমপক্ষে ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। রোববার কর্মকর্তারা একথা জানান।
তারা আরো জানান, প্যারাগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়েতে প্রবল বর্ষণের কারণে প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার লোক তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে গেছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, এ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় আর্জেন্টিনায় দু’জন এবং প্যারাগুয়েতে চারজন মারা গেছে।
প্যারাগুয়ের আবহাওয়া সংস্থার পরিচালক জুলিয়ান বায়েজ জানান, প্রবল বর্ষণের ফলে দেশে মহাপ্লাবন দেখা দিয়েছে। এদিকে এখন পর্যন্ত এ দুর্যোগ কমার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বায়েজ এক ব্রিফিংয়ে বলেন, প্যারাগুয়ে নদীর পানির উচ্চতা প্রায় আট মিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিসেম্বর মাসে এরআগে এমন দুর্যোগ খুব কমই দেখা গেছে।
IMG0
বায়েজ সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাসদানকারিদের ধারণা অনুযায়ী উত্তরাঞ্চলে বর্ষণ অব্যাহত থাকলে সেখানে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটতে পারে বা ১৯৮৩ সালের রেকর্ড অতিক্রম করতে পারে। ওই সময় নদীর পানির উচ্চতা নয় মিটার বৃদ্ধি পেয়েছিল।
কর্মকর্তারা জানান, এ বন্যার কারণে দেশের মোট জনগোষ্ঠীর অধিকাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্যারাগুয়ের বর্তমানে মোট জনসংখ্যা ৬৮ লাখ। বিজ্ঞানীরা জানান, ‘এল নিনোর’ প্রভাবে এ ভয়াবহ দুর্যোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বন্যার কারণে দেশটিতে কমপক্ষে চারজন মারা গেছে এবং এক লাখ ৪০ হাজারের বেশী লোক তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে গেছে।
IMG1
এদিকে ব্রাজিলের সরকারি কর্মকর্তারা জানান, দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় সাও পাওলো মহানগর এলাকায় প্রবল বর্ষণের ফলে সৃষ্ট ভূমিধসের কারণে দু’টি বাড়িতে চারজনের মৃত্যু হয়। আর্জেন্টিনার নতুন প্রেসিডেন্ট মোরিসিও ম্যাকরি তার নতুন বছরের অবকাশ যাপনের সময় কমিয়ে বন্যা কবলিত এন্ট্রি রিওস প্রদেশের কনকর্ডিয়া এলাকা পরিদর্শনে যান।
কর্তৃপক্ষ জানায়, আর্জেন্টিনার উত্তরপূর্বাঞ্চলে বন্যার কারণে দু’জন মারা গেছে এবং উরুগুয়ে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যার কারণে প্রায় ২০ হাজার লোককে তাদের ঘরবাড়ি থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এএফপি।