‘বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী পর্যন্ত বাঁচতে চাই’

 

বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী পর্যন্ত বাঁচতে চান সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক।

সোমবার সন্ধ্যায় বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে ‘সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক-এর ৮০ বছর পূর্তি সম্মাননা-সংকলন’ প্রকাশনা উৎসবে তিনি এ আশা প্রকাশ করেন।

এ সময় তিনি বলেন,  ‘আজ (২৮ ডিসেম্বর) আমি ৮১ বছরে পা রাখলাম। আজকের এ দিনে আমার একটাই কামনা, আমরা সবাই মিলে যেন একটি সুন্দর স্বর্গীয় জনপদ রেখে যেতে পারি।’

তিনি আরো বলেন, ‘যাদের কোনো জন্মদিন নেই, যাদের রক্তের ওপর আজকের এ স্বাধীন বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে, আমার সব লেখায় তাদের কথা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আমরা যেন তাদের মর্যাদা রক্ষা করতে পারি।’

সৈয়দ শামসুল হক তার বাকি জীবনে আরো পাঁচটি নাটক (পাপ-পূণ্য, সত্য-মিথ্যা ন্যায়-অন্যায়, তেভাগা আন্দোলন, লাশ কাটা ও বঙ্গবন্ধু) পরবর্তী প্রজন্মের জন্য উপহার হিসেবে লেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

প্রকাশনা উৎসবে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. শামসুজ্জামান খান। তিনি বাংলা সাহিত্যে সৈয়দ শামসুল হকের অসামান্য অবদানের কথা তুলে ধরেন।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘সাহিত্য জগতে আসল রুচি ও বিনোদন ফুটিয়ে তুলেছেন এ মহান লেখক। তিনি আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন যুগের পর যুগ।’ এ সময় তিনি সৈয়দ শামসুল হকের সঙ্গে তার বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করেন।

সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘সৈয়দ শামসুল হকের যে লেখা, তা আবিস্কার করা সহজ নয়। বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথের পরে এত বড় নাট্যকার হয়েছে কি না, সেটি আমার জানা নেই। তিনি তার লেখায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সুচারুরূপে ফুটিয়ে তুলেছেন।’

সভাপতির বক্তব্যে এমিরেটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন, ‘সাহিত্যের এমন কোনো দিক নেই যে, তিনি বিচরণ করেননি। শুধু নাটক নয়, উপন্যাসেও তার অনুপম চরিত্র প্রকাশ পায়। প্রতিটি লেখায় বাংলা ভাষার সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা প্রকাশ পায়। ভাষা ও সাহিত্য সম্পর্কে তার মতো এতো গভীরভাবে কেউ চিন্তা করতে পারে বলে আমার মনে হয় না।’

অনুষ্ঠানে সৈয়দ শামসুল হকের স্ত্রী আনোয়ার সৈয়দ হক তার পারিবারিক বন্ধনের কথা তুলে ধরেন। সৈয়দ শামসুল হককে নিয়ে আরো বক্তব্য রাখেন রামেন্দু মজুমদার, রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।