২০ বছরের মধ্যে প্রতিটি ডিভাইসে থাকবে চিপ :মার্ক অ্যানড্রেসেন

এখনকার সময়ের আলোচিত প্রযুক্তি প্রবণতার নাম ইন্টারনেট অব থিংস। এই প্রযুক্তিতে প্রতিটি ডিভাইস ইন্টারনেটে যুক্ত থাকবে এবং প্রতিটি ডিভাইসই স্মার্ট হয়ে উঠবে। এখনও পর্যন্ত ইন্টারনেট অব থিংস-নির্ভর প্রযুক্তি পণ্য খুব বেশি বাজারে না আসলেও আগামী বছরগুলোতে এটিই হবে প্রযুক্তিবিশ্বের চালিকাশক্তি। এমনটিই মনে করেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।
 
তাদের চেয়েও এক ধাপ এগিয়ে সফটওয়্যার প্রকৌশলী, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারী মার্ক অ্যানড্রেসেন মনে করছেন, আগামী ২০ বছরের মধ্যেই প্রতিটি ফিজিক্যাল ডিভাইসে সংযুক্ত থাকবে একটি করে চিপ এবং এর মাধ্যমে প্রতিটি ডিভাইসই কানেক্টেড ডিভাইসে পরিণত হবে। এমনকি স্মার্টফোনের যে বহুল ব্যবহার এখন, সেই স্মার্টফোনও হয়তো এখনকার মতো আর থাকবে না; সেই জায়গা দখল করে নিবে নতুন কোনো কানেক্টেড ডিভাইস।
 
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের সাথে আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন বিশ্বের প্রথম ওয়েব ব্রাউজার মোজাইকের ডেভেলপার মার্ক অ্যানড্রেসেন। মোজাইক ছাড়াও নেটস্কেপ ওয়েব ব্রাউজার নির্মাতা কোম্পানি নেটস্কেপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা অ্যানড্রেসেন। সিলিকন ভ্যালির ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম অ্যানড্রেসেন হরোউইটজ, এইচপির কিনে নেওয়া সফটওয়্যার কোম্পানি ওপসওয়্যার, সোস্যাল নেটওয়ার্ক প্ল্যাটফর্ম নিং প্রভৃতিরও সহ-প্রতিষ্ঠাতা তিনি। ফেসবুক, ই-বে, এইচপির মতো কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদেও রয়েছেন প্রযুক্তিবিশ্বের এই খ্যাতিমান উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারী।
 
টেলিগ্রাফে অ্যানড্রেসেন বলেন, ‘এখন আমরা যে স্মার্টফোনের মতো একটি ডিসপ্লের ডিভাইস ব্যবহার করে থাকি, তার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ওই সময়ে (২০ বছর পর) প্রতিটি টেবিল, দেয়াল বা প্রতিটি তলই একটি ডিসপ্লে হিসেবে কাজ করবে অথবা এগুলোকে ডিসপ্লে প্রজেকশনের সুবিধা থাকবে। তখন একটি ইয়ারপিস বা আইগ্লাস থেকেই কল করার সুবিধা পাওয়া যাবে। এই প্রযুক্তি অবশ্যম্ভাবী।’
 
সেই সময়ের কথা মাথায় রেখেই অ্যানড্রেসেন সামসারা নামক একটি স্টার্টআপে ২৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন যেটি দ্বিতীয় প্রজন্মের ইন্টারনেট অব থিংস-নির্ভর ডিভাইসন নিয়ে কাজ শুরু করেছে।
 

তিনি বলেন, ‘দরজার নব থেকে শুরু করে চাবি—সবকিছুই বিশ বছর পরে ইন্টারনেটে যুক্ত থাকবে। বর্তমানে বিভিন্ন ডিভাইসে সেন্সর ব্যবহারের প্রচলন শুরু হয়েছে। তখন প্রতিটি ডিভাইসেই থাকবে সেন্সর এবং চিপ। ফলে প্রতিটি ডিভাইসই ইন্টারনেটে যুক্ত থাকবে এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনকে আরও সহজ করে তুলতে ভূমিকা রাখবে।