দেয়ালে নতুন ক্যালেন্ডার ঝুলানো সময়টা হয়েই এলো। আর তার আগে পুরোনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরটিকে স্বাগতম জানাতে প্রস্তুত এখন সারাবিশ্ব। আমাদের দেশও সেই জায়গাতে প্রায় সমানতালে চলছে। দেশের পাঁচ তারকা হোটেলগুলোর পার্টিরুম এরইমধ্যে দখলে। আর এসব বিলাসবহুল বর্ষবরণ আয়োজনের মূল অংশ ডিজে।
দুই কানে লাগানো হেডফোন, বাজছে গানের সুর, চোখের তারা খেলা করছে হাতের সামনে রাখা ডিস্ক প্লেয়ার দুটোতে, আঙুলের নিয়ন্ত্রণে চলছে বহুমাত্রিক শব্দের খেলা, স্পিকার থেকে ভেসে আসছে বুক কাঁপানো সুর এই নিয়েই মাতানো হয় ডিজে শো। সময়ের সাথে সাথে তারুণদের মাঝে ডিজে এখন বেশ জনপ্রিয়। আর বছরের শেষটায় এর চাহিদা আরও বেড়ে যায়।
প্রতিবছরের মতো এবারও বছরের শেষ দিনটি মাতাবেন ডিজে প্রিন্স, রাহাত, তন্ময় ও জেনিফাসহ বেশ কয়েকজন। তবে দেশের জনপ্রিয় ডিজে সোনিকাকে এবার পাবেন না তার ভক্তরা। সন্তান জন্মের পর কাজের বিরতিতে রয়েছেন তিনি। সোনিকা বলেন, ‘প্রতিবছর এই দিনটির জন্য অপেক্ষা থাকে। এবার ভক্তদের অনেক মিস করবো। আমার সন্তানকে নিয়ে এখন ব্যস্ত আছি। সময় হলে আবার কাজে ফিরবো।’ ডিজে গানের জনপ্রিয়তা থাকলেও প্রশ্ন উঠে আসে—এসব শোতে কয়টা বাংলা গান বাজানো হয়। আর যে বাংলা গানগুলো সেখানে বাজে সেগুলোর সুর কতটা ঠিক জায়গায় থাকে, এ নিয়ে বিতর্ক অনেক। সেই বিতর্কের বিষয়গুলো নিয়ে কথা বললেন এ সময়ে কয়েকজন জনপ্রিয় ডিজে।
তরুণ প্রজন্মের মধ্যে শুদ্ধ ডিজে শিল্পের বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যে একটি ‘গ্যারেজ’ নামের প্রতিষ্ঠান খুলেছেন ডিজে রাহাত। আসন্ন থার্টিফার্স্ট নাইটে তিনি বাজাবেন ঢাকা উত্তরা ক্লাবে। দেশের ডিজে শিল্পের বর্তমান অবস্থা ও পুরোনো দিনের গানগুলো সুর বিকৃত করা প্রসঙ্গে রাহাত বলেন, ‘ডিজে বিষয়টি নিয়ে আমাদের মাঝে এখনও নেতিবাচক অনেক ধারণা রয়েছে। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। এর মূল কারণ ডিজে জ্ঞানের স্বল্পতা। অনেক ডিজেকে দেখা যায় সামান্য কিছু মিউজিক সংগ্রহ করেই নিজেকে ডিজে হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। আমার নিজের অনেকগুলো বাংলা গান হওয়াতে এখন আমি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাংলা গানের ওপর জোর দিচ্ছি। আর পুরোনো গানগুলোর সুর আমরা বিকৃত করছি না। আমরা গানগুলোর সুর ঠিক রেখে শুধু নতুন মিউজিক যোগ করি। আর এটাকে বিকৃত করা বলে না। কয়েকজন ডিজের জন্য সবাইকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে।’
তরুণ প্রজন্মের আরও একজন জনপ্রিয় ডিস্ক জকি হচ্ছেন ডিজে তন্ময়। তিনিও বেশিরভাগ শো’তে বাংলা ও ইংলিশ গানের প্রতি বেশি জোর দিয়ে থাকেন। আসন্ন থার্টিফার্স্ট নাইটে তিনি বাজাবেন ঢাকা ক্লাবে। দেশীয় গানের ক্ষেত্রে সুর বিকৃত করা হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘ডিজে বিষয়টি সম্পর্কে কিছু না জেনেই নতুন যারা আসছে এই পেশায় তারা হয়তো কিছু কিছু ক্ষেত্রে সুর বিকৃত করে ফেলছে। তবে আমরা যারা অনেকদিন যাবত্ ডিজে পেশায় আছি তারা বাংলা গান বাজানোর ক্ষেত্রে অনেক সতর্কতা অবলম্বন করে থাকি।’
ডিজে শিল্পীদের একাত্বতা বিষয়টি নিয়েও কথা বলেছেন ডিজেরা। কারণ একটি সংগঠন থাকলে নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া সম্ভব বলে জানান তারা। দেশের সঙ্গীতে নতুন কিছু সংযোজন ইতিবাচক হলেও বিকৃতির অভিযোগের দায় নিচ্ছেন না কেউ। সেই জায়গাগুলোতে স্বচ্ছতা প্রয়োজন বলে মনে করেন দেশের সঙ্গীত সংশ্লিষ্টরা।