‘তুমি যাবে ভাই — যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয় /গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়;’
অস্তিত্বের মূলে এসে আহ্বান জানায় কবির ‘নিমন্ত্রণ’ কবিতাটি। বাংলার শান্ত নিঃসীম প্রকৃতি, নদীর বয়ে চলা স্রোতের কলকল ধ্বনির মতই এই আহ্বান। সহজ, সরল এ ডাক যেন বাংলার মানুষের জীবনযাত্রাকে উন্মোচিত করে। কবি জসীম উদ্দীন তাঁর কবিতার পংক্তিমালায় বাংলার প্রকৃতি, মানুষের চিরায়ত জীবনযাত্রাকে তুলে এনেছেন। বাংলার মানুষ ভালোবেসে তাঁর নাম দিয়েছে ‘পল্লীকবি’। আজ পল্লীকবি জসীম উদ্দীনের ১১৩ তম জন্মদিন। সাধারণ্যে কবি হিসাবে তিনি পরিচিত হলেও তিনি একজন শিক্ষাবিদও ছিলেন।
ছাত্র জীবন থেকেই তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। কবিতায় পল্লী প্রকৃতি ও পল্লী জীবনের সহজ-সুন্দর রূপটি তুলে ধরেন। পল্লীর মাটি ও মানুষের সঙ্গে তাঁর অস্তিত্ব যেন মিলেমিশে এক হয়ে গিয়েছিল। কলেজ জীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়েই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়। কবি হিসাবে এটি তাঁর এক অসামান্য সাফল্য। নকশী কাঁথার মাঠ কবির শ্রেষ্ঠ রচনা যা বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।