ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে আবারো গুলি ও গ্রেনেড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চালানোর সময় এই গুলির শব্দ শোনা যায়। শনিবার এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধারণা করা হচ্ছে, আরো সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থলে লুকিয়ে আছে।
এর আগে ভোররাত সাড়ে তিনটার দিকে সন্ত্রাসীরা পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায়। ঐ হামলায় চার সন্ত্রাসী ও তিনজন সৈন্য নিহত হয়েছেন।
ধারণা করা হচ্ছে, সন্ত্রাসী সংগঠন জইস-ই-মোহাম্মদ এই হামলা চালিয়েছে। সূত্র বলছে, হামলাকারীরা পাকিস্তানের ভাওয়ালপুর থেকে এসেছে। তাদের ঘাঁটির হেলিপ্টার স্টেশন ধ্বংস করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।
পাকিস্তানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আকস্মিক সফরের ১০দিনের মধ্যে এই হামলা চালানো হলো।
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, আমরা পাকিস্তানের সাথে ভালো সম্পর্ক রাখতে চাই। কিন্তু যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী হামলা জবাব দেয়া হবে।
গোয়েন্দারা আগেই পাঠানকোন ঘাঁটিতে সম্ভাব্য হামলা সতর্কবার্তা করে দিয়েছিলেন। এরপর শুক্রবার রাতে একটি জরুরি সভা ডেকে ঘাঁটির নিরাপত্তা জোরদারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ঐ বিমানঘাঁটিতে মিগ-২১ বিসন যুদ্ধবিমান ও এমআই-৩৫ যুদ্ধ হেলিকপ্টার রয়েছে। এই ঘাঁটিটি পাকিস্তান সীমান্তের কাছ থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে।
কর্মকর্তারা বলেছেন, সন্ত্রাসীরা বিমানঘাঁটিতে ঢুকে পড়লেও যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টারগুলো অক্ষত আছে।
হামলাকারীরা কর্মকর্তাদের একটি গাড়িতে করে বিমানঘাঁটিতে প্রবেশ করে। তাদের পরণে সেনাবাহিনীল পোশাক ছিল। সূত্র বলছে, যে গাড়ি নিয়ে সন্ত্রাসীরা ঘাঁটিতে প্রবেশ করেছে সেই গাড়ি গুরুদাসপুরের এসপি গাড়ি। এটি গতকাল সন্ধ্যায় ছিনতাই করা হয়েছিল।
পাঞ্জাবের গুরুদাসপুরে হামলার ছয়মাস পর বিমানঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হলো। গুরুদাসপুরের দিয়ানগরে গ্রেনেড ও একে-৪৭’র হামলায় তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।