ফ্রান্সের একজন শিক্ষাবিদ এবং একজন এমপি শুক্রবার অ্যানা ফ্রাঙ্কের বিখ্যাত ডায়েরি অনলাইনে প্রকাশ করেছেন। এটি জনগণের সম্পদ কিনা এ নিয়ে স্বত্বাধিকারীদের সঙ্গে বিরোধ সত্ত্বেও এটি প্রকাশ করা হলো।
প্রকাশের সঙ্গে জড়িত উভয়ের দাবি, ফ্রাঙ্কের মৃত্যুর ৭০ বছর পার হয়েছে। এটি এখন জনগণের সম্পদ। ইউরোপের ১৯৯৩ সালের আইন অনুযায়ী কোন বইয়ের লেখক কিংবা লেখকগণের মৃত্যুর সাত দশক পর বইয়ের বিশেষ কপিরাইট আর থাকে না। অ্যানা ফ্রাঙ্ক ১৯৪৫ সালে বার্গেন-বেলসেন কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে ১৫ বছর বয়সে মারা যান। আমস্টারডামে অ্যানা ও তার পরিবার ১৯৪২ সালের জুন থেকে ১৯৪৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত পালিয়ে ছিলেন। এ সময় অ্যানা তার ধারাবাহিক জীবন কাহিনী ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করেন।
এই ডায়েরি তার বাবা ১৯৪৭ সালে ডাচ ভাষায় প্রথম প্রকাশ করেন। প্রকাশকালে তিনি ডায়েরির কিছু অংশ মুছেও ফেলেন। উল্লেখ্য, প্রকাশের পরপরই ডায়েরিটি তিন কোটি কপিরও বেশি বিক্রি হয়। সুইজারল্যান্ডের বাসেলভিত্তিক দ্য অ্যানা ফ্রাঙ্ক ফান্ড ডায়েরিটির সত্ত্বাধিকারী। আগে তারা বার্তা সংস্থা এএফপি’কে বলেছিল, ডায়েরিটি প্রকাশ করা হলে আইনী পদক্ষেপ নেয়া হবে এই বলে তারা চিঠি পাঠিয়েছে।
ফান্ড বলছে, এটি একটি মরণোত্তর প্রকাশনা। ফলে এটির প্রথম প্রকাশ থেকে এর কপিরাইটের মেয়াদ আরো ৫০ বছর বেড়ে যাবে। সে অনুযায়ী এর কপিরাইটের মেয়াদ শেষ হবে ২০৩৭ সালে। ইউনিভার্সিটি অব নানতিসের প্রভাষক অলিভার এর্সসিড অক্টোবরে ডায়েরিটির ফরাসি সংস্করণ তার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেন। ফ্রান্সের পার্লামেন্ট সদস্য ইসাবেল অটার্ড শুক্রবার মূল ডাচ ভাষায় ফ্রাঙ্কের ডায়েরিটি অন-লাইনে প্রকাশ করেন। তিনি গ্রিন পার্টির সদস্য। ইসাবেল ফান্ডের বিরোধিতার সমালোচনা করে বলেন, ডায়েরিটি জনগণের সম্পদে পরিণত হলে এর লেখক আরো বেশি সুপরিচিত হবেন। এএফপি।