ঢাকাই চলচ্চিত্রের এক সময়ের নিয়মিত মুখ ছিলেন চিত্রনায়ক আমিন খান। অসংখ্য ব্যবসাসফল সিনেমা রয়েছে তার ঝুলিতে। তবে বেশ কয়েক বছর চলচ্চিত্রে অনিয়মিত তিনি। এরমধ্যে ছোটপর্দাতে অভিনয় করেছেন কয়েকটি নাটকে। বিশেষ দিবসগুলোতে ছোটপর্দায় উপস্থিতি এখন তার। কিছুদিন আগে চলচ্চিত্র প্রযোজনার ঘোষণা দিলেও মাঝপথে আর কোনো খবর নেই চলচ্চিত্রটির। চলচ্চিত্রের এখনকার অবস্থা ও চলচ্চিত্রে তার ভবিষ্যৎ ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে।
চলচ্চিত্রে অনেকদিন আপনি অনিয়মিত, এর কারণ কি?
চলচ্চিত্রে আমি অনেকদিন যাবত অনিয়মিত হলেও এখন চলচ্চিত্রের সাথেই আছি। যদিও খুব অল্প পরিসরে কাজ করছি। ‘দুদু মিয়া’ নামে এখন আমার একটি সিনেমার কাজ চলছে। ডাল রহমান পরিচালিত এই সিনেমাটি ১৮০০ সালের তৎকালীন ইতিহাসের আদলের একটি গল্পে নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া মাঝে মধ্যে টিভি নাটক ও টেলিছবিতে কাজ করছি। বেশ কিছুদিন যাবত ব্যবসার সাথে জড়িয়েছি আমি। যে কারণে ব্যবসা নিয়ে কিছুটা ব্যস্ততায় থাকতে হচ্ছে।
তাহলে কি চলচ্চিত্রে নিয়মিত হচ্ছেন না?
আমার পরিচয় আমি একজন অভিনয়শিল্পী। আর এই সত্তাকে কখনও মুছে দিতে আমি পারবো না। অনিয়মিত হলেও চলচ্চিত্রের সাথে জড়িত থাকবো। তবে আগের মতো খুব নিয়মিতভাবে আর ফিরবো কি-না তা এখনও বলতে পারছি না। এ বছরেই প্রযোজনায় আসবো। সেই লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছি। আশা করছি অল্পদিনেই প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করতে পারবো।
দীর্ঘদিন চলচ্চিত্রের সাথে আছেন, চলচ্চিত্রের এখনকার পরিস্থিতি কেমন দেখছেন?
চলচ্চিত্রের বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে উঁচু গলায় কোনো মন্তব্য করতে পারি না। বিশ্বের অন্যান্য দেশের চলচ্চিত্র প্রতিনিয়ত এগুচ্ছে। হলিউড, বলিউড, ইরানি এমনকি আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী ইন্ডাস্ট্রি কলকাতার চলচ্চিত্রও অনেক এগিয়েছে। সেই তুলনায় আমাদের অবস্থা হতাশাজনক। বেশ কয়েক বছর আমাদের চলচ্চিত্র উন্নতির পথে না হেঁটে একটা জায়গাতে থমকে আছে। আর এই কারণে আমরা পেছনের দিকে চলে যাচ্ছি।
তাহলে এই অবস্থায় চলচ্চিত্র উন্নয়নের উপায় কি মনে করেন?
চলচ্চিত্রের এখন যে পরিস্থিতি রাতারাতি এখান থেকে উত্তরণের কোনো উপায় আমি দেখছি না। আমাদের চলচ্চিত্র মেধা সঙ্কটে ভুগছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সরকার থেকে একটা সঠিক দিকনির্দেশনা প্রয়োজন সবার আগে। তারা আগামী পাঁচ বছর আমাদের চলচ্চিত্রে একটা উন্নয়ন পরিকল্পনা দেবে। আর প্রযোজক, পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টরা সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করবে। তবেই আমাদের চলচ্চিত্র আবার তার সাফল্যের মুখ দেখতে পাবে।
সরকারকেই দিকনির্দেশনা দিতে হবে এমনটা মনে হচ্ছে কেন?
এখন চলচ্চিত্রের একটা হযবরল অবস্থা চলছে। যে যার ইচ্ছে মতো চলচ্চিত্র নির্মাণ করছে। বেশিরভাগ চলচ্চিত্রে গল্পের মান নেই বললেই চলে। আমরা আমাদের চলচ্চিত্রকে কোন দিকে নিয়ে যেতে চাই সে রকম কোনো লক্ষ্য আমাদের নেই। যে কারণে এই কাজটা শুধুমাত্র সরকারই করতে পারে। যেটা চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মানতে বাধ্য থাকবে। তবেই আমাদের চলচ্চিত্রের সুদিন ফিরে আসবে।
যৌথ প্রযোজনায় এখন নিয়মিত চলচ্চিত্র নির্মাণ হচ্ছে, চলচ্চিত্রগুলো ব্যবসাসফলও হচ্ছে। কিন্তু আমরা কতটা সফল হচ্ছি?
যৌথ প্রযোজনায় সিনেমা আগেও হয়েছে। আমিও যৌথ প্রযোজনার বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছি। সেই চলচ্চিত্রগুলোতে আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির প্রভাব ছিল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, এখনকার যৌথ প্রযোজনার সিনেমাগুলোতে আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির প্রভাব নেই। যে কারণে যৌথ প্রযোজনার কোনো কোনো সিনেমা ব্যবসায়িক সাফল্য পেলেও তা দেশের চলচ্চিত্রের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।