১৪০ শব্দে টুইট করার বাধ্যবাধতা থেকে সরে আসছে ক্ষুদে ব্লগ লেখার সাইট টুইটার। জনপ্রিয়তার দৌড়ে ফেসবুকসহ অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের কাতারে উঠে আসতে এই উদ্যোগ নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি টুইটারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জ্যাক ডরসি টুইট করে নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
কিছুদিন আগে প্রযুক্তির খবর প্রচারকারী ওয়েবপোর্টাল ‘রি/কোড’ এক প্রতিবেদনে জানায়, ব্যবহারকারীদের জন্য ১৪০ শব্দের পরিবর্তে ১০ হাজার শব্দে টুইট করার সেবা চালুর পরিকল্পনা করছে টুইটার। ডরসি এই খবরের দিকে ইঙ্গিত করে একটি স্ক্রিনশট টুইট করেছেন যাতে এক হাজার ৩২৫ শব্দের টেক্সট রয়েছে।
ডরসি টুইটার বার্তায় জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে সাইটটির প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ব্যবহারকারী রয়েছেন। এই বিপুল সংখ্যক ব্যবহারকারীদের নিজেদের প্রকাশের সুযোগকে আরও সহজ করতে ১৪০ শব্দে টুইট করার বাধ্যবাধতা শীতল করা হচ্ছে। এতে সৃজনশীলতা ও সাহসিকতা অনুপ্রাণিত হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্যবহারকারী বাড়ানো নিয়ে বিনিয়োগকারীদের চাপে আছে টুইটার। সেজন্য দশক পুরনো ১৪০ শব্দে টুইট করার নিয়ম উঠিয়ে দিচ্ছে সাইটটি।
টেক টু জানিয়েছে, টুইটারের নতুন সেবার আওতায় ব্যবহারকারীরা দীর্ঘ টেক্সট টুইট করতেন পারবেন। তবে শব্দের সংখ্যা কত হবে সে বিষয়ে প্রতিবেদনটিতে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
সিনেট জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে সাইটটিতে নতুন একটি ফিচার যোগ করা হচ্ছে যা ব্যবহারকারীদের ১৪০ এর বেশি শব্দে বার্তা টুইটের সুবিধা দেবে। প্রাথমিকভাবে শব্দসীমা ১৪০ এর পরিবর্তে ১০ হাজার নির্ধারণ করা হয়েছে।
বর্তমানে টুইটারের ‘ওয়ান শট’ এবং ‘টুইট লংগার’ সেবার আওতায় দীর্ঘ বার্তা প্রকাশ করার সুযোগ রয়েছে। ওয়ান শটের মাধ্যমে ছবি এবং টুইট লংগারের মাধ্যমে নোট এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইটের লিংক প্রকাশ করা যায়।
মাস তিনেক আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক খবরে জানায়, ‘১৪০ প্লাস’ নামের প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে টুইটার। এই প্রকল্পের আওতায় টুইটে ১৫০ বা তার চেয়ে বেশি শব্দ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন ব্যবহারকারীরা।IMG0
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোর মধ্যে এক সময় ফেসবুকের পরেই টুইটারের অবস্থান ছিল। কিন্তু ফেসবুকের মালিকানাধীন ইনস্টাগ্রাম টুইটারের জায়গা দখল করে দ্বিতীয় অবস্থানে চলে এসেছে। তাই প্রতিযোগিতায় নিজের অবস্থান শীর্ষে ধরে রাখতে টুইটার মেসেজে শব্দ সীমা বাড়াচ্ছে।