যারা কয়েকদিন আগেও মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের অভাবে খুপরিতে বসবাস করতেন। তারা আজ ঘর পেয়ে বলেন, ‘শেখের বেটি আংগোরে ঘর দিছে আমরা হেরে দোয়া দিয়াম।’
সূত্র জানায়, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌর সভায় গৃহহীন পরিবারের জন্য ৪শ’ ৮০টি আধা পাকা ঘর বরাদ্দ আসে। প্রতি ঘর ও টয়লেট নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় এক লাখ টাকা। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিটির ঘর নির্মাণ করে সম্প্রতি গৃহহীনদের মাঝে হস্তান্তর করেন।
মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে ঘর পাওয়া চন্ডিপুর ইউনিয়নের অভিরামপু গ্রামের শাহিনুর বেগমের সঙ্গে কথা বললে তিনি আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন, ‘দশ বছর ধরি একখান ঘর কইত্তে হারিনো। তুফান আইলে ঘর উড়াই লই যায় কিনা হেই ডরে ঘুম আইতো না। মেঘ আইলে হানি হড়ে, শীতকালে ঠাণ্ডায় খুব কষ্ট হাই। ওন আংগোরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘর বানাই দিছে, লেপটিনও করি দিছে, খুব ভালা ওইছে, এখন আন্ডা খুশি। এসব কথা বলে আবেগ আপ্লুত হয়ে দুহাত তুলে দোয়া করে বলেন শেখের বেটি আংগোরে ঘর দিছে আমরা হেরে দোয়া দিয়াম।’
আরো পড়ুন: নুরকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন শোভন, এক সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার
চন্ডিপুর গ্রামের মাহফুজা কানে কম শুনেন। বুদ্ধিপ্রতিন্ধীর কারণে স্বামী পরিত্যক্তা হন। বাপের বাড়িতে ঠাঁই না পেয়ে ৩০ বছর যাবত বোনের বাড়িতে সামান্য জায়গায় পাতার ছাউনির একটি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করতেন। বিনামূল্যে ঘর পেয়ে তিনিও খুব খুশি, যাকে পায় তাকে ঘরটি দেখিয়ে শুধু বলেন, ‘হাসিনারে আল্লাহ বাচাই রাখুখ।’
ঘর পেয়ে উচ্ছ্বসিত গৃহহীনরা। ছবি: ইত্তেফাক
ঘর পেয়ে উচ্ছ্বাস ও আনন্দ প্রকাশ করে নিচহরা গ্রামের দিনমজুর বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘অনেকদিন থেকে ছেলে মেয়েদেরকে নিয়ে থাকতে খুব সমস্যায় ছিলাম, মনে মনে একটি ঘর করার স্বপ্ন দেখতাম। কিন্তু অভাবে সেটি হয়নি। এখন শেখ হাসিনা গরীবের দুঃখ বুঝে সুন্দর একটি ঘর দেওয়ায় মাথা গোজার জাগা পাইছি।’
ঘর পেয়ে খুশি নন্দনপুর গ্রামের গ্রামের রিক্সা চালক আমির হোসেন, ভোলাকোট গ্রামের বিধবা রৌশনারা বেগম, অভিরামপুর গ্রামের অসহায় কবিতা কংশ বনিক, টামটা গ্রামের প্রতিবন্ধী মো. সফিকসহ উপজেলার দুস্থ ও অসহায় অনেকেই।
ঘর বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য ভাদুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘যার জমি আছে ঘর নাই’ তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এ প্রকল্পের আওতায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সার্বিক এবং ব্যক্তিগত আর্থিক সহযোগিতায় ৪শ ৮০ গরীব অসহায় পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণ করে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন জানান, সরকারি বিধি মোতাবেক যথাযথভাবে প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ করা হয়। ১৫ ফুট দৈর্ঘ্য এসব ঘর মেঝো পাকা, সামনে খোলা বারান্দা আরসিসি পিলার, উন্নত টিনের বেড়ার ছাউনিতে ঘেরা। এর সঙ্গে একটু দূরে পয়ঃনিস্কাশনের স্যানিটারি ল্যাট্রিন রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার রিজাউল করিম জানান, গত বছর এপ্রিল মাস থেকে কাজ শুরু করে গত ৩১ ডিসেম্বর মধ্যে ৪শত ৮০টি পরিবারকে তালিকা অনুযায়ী ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক/জেডএইচ