আমার খুব ব্যক্তিগত কেউ নেই : পড়শি

পড়শি, কি জানেন না তিনি? গান, নাচ অভিনয়। শোবিজের এই আদ্যোপান্ত চর্চায় সে সিদ্ধহস্ত ! এ কথা বললেই গানের জনপ্রিয় কণ্ঠটি বলে ওঠে, 'আমরা কি জেনিফার লোপেজ বা ম্যাডোনাকে বলি, কেন অভিনয়, নাচ , গান লেখালেখি একসাথে করো! আমরা করলেই দোষ!' স্রেফ মজা করেই বলছিলেন এসব। তবে ছোটবেলা থেকেই গান, নাচ ও অভিনয়ের মধ্য দিয়েই বেড়ে উঠেছেন সাবরিন এহসান পড়শি। তবে নামের পরিচয়ে অনেক আগেই এদেশের গান পাগলদের মনের পড়শি হয়ে গেছেন তিনি। ইত্তেফাক অনলাইনের আড্ডায় অংশ নিয়ে জানালেন তার অনেক না জানা কথা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মারুফ রহমান
 
আপনার চলচ্চিত্রের যাত্রা সম্পর্কে জানতে চাই। 'মেন্টাল' নিয়ে আপনি মেন্টালি কতটা সন্তুষ্ট!
 
অভিনয় শিখেছি ছোট বেলা থেকেই। কিন্তু তখন ভাবিনি চলচ্চিত্রে অভিনয় করা হবে কোন দিন। সেক্ষেত্রে বলতে গেলে চলচ্চিত্রে অভিনয় না করলে বুঝতেই পারতাম না অভিনয় করাটা কতটা কঠিন। আমার জীবনে নতুন একটি অভিজ্ঞতা যোগ হয়েছে। অনেক কিছু শিখতে পেরেছি, জানতে পেরেছি। এই শেখাটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় পাওয়া।
 
প্রথম চলচ্চিত্রেই দেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক শাকিব খানের বিপরীতে.. বিষয়টি কেমন? আপনার বন্ধুরা কেউ জানতে চায়নি, শাকিবের নায়িকা বলে ডাকেনি!
 
হাহাহ। তা তো ডাকেই মজা করে। এটা আমার কাছে অনেক বড় কিছু ছিল। কারণ জীবনের প্রথম চলচ্চিত্রেই শাকিব ভাইয়ার মত একজন জনপ্রিয় ও অভিজ্ঞ নায়কের সঙ্গে কাজ করতে পেরেছি। তবে অভিনয়ের পূর্বে ভেবেছিলাম খুব কঠিন হবে তার সাথে কাজ করাটা। কিন্তু কাজ করার সময় বুঝতে পেরেছি তিনি কতটা হেল্প ফুল। তিনি আমাকে প্রতিটি ক্ষেত্রেই খুব সহায়তা করেছেন। একজন নায়কের যেমন হওয়া উচিত তার থেকেও তিনি অনেক ভাল।
 
চলচ্চিত্রে নিয়মিত কাজ করার ইচ্ছে আছে কি? চলচ্চিত্রের মেইনস্ট্রীমের রিলে রেসে আছেন যারা, তাদের সাথে দৌড়ানোর ইচ্ছে আছে?
 
আমি আসলে অনেকটা শখের বসেই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছি। সেক্ষেত্রে খুব নিয়মিত হওয়ার ইচ্ছে না থাকলেও যদি গল্প পছন্দ হয় তবে কাজ করার ইচ্ছে আছে। এ ছাড়া আমি যেহেতু গানের মানুষ তাই গান নিয়েই থাকতে চাই। থাকুক না, একটু চমক নিয়ে, গানের পড়শি অভিনয় করছি, টুকটাক। মন্দ কি। গানটাই তো আমার মূল পরিচয়।
 
IMG0
 
চলচ্চিত্রে অভিনয়ের ক্ষেত্রে আপনার পারিবারিক সম্মতি ছিল কতটুকু?
 
সত্যি বলতে, আমি আমার পরিবারের কথা রাখতেই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছি। বিশেষ করে আমার আম্মু ও ভাইয়ার অনেক সাপোর্ট ছিল চলচ্চিত্রে অভিনয়ের ক্ষেত্রে। তাদের কথা, আমি যেহেতু ছোট বেলা থেকেই গান, নাচ ও অভিনয় শিখেছি তাহলে কেন সেগুলোর চর্চা করবো না। এ ছাড়া আমি আমার পরিবারের অসম্মতিতে কোন কাজ করি না।
 
দেশের নাট্য অঙ্গনে আপনাকে কবে থেকে দেখতে পাব? নাটকে পড়শি এটাই বা কেন বাদ যাবে।
 
নাটকের অনেক প্রস্তাবই পাচ্ছি। এ নিয়ে কথা বার্তাও চলছে। কিন্তু এখনও কোন কিছু চূড়ান্ত হয়নি। তবে আমি চাচ্ছি কিছু দিন গান নিয়েই থাকতে।
 
আপনার অভিনয়ের কোন প্রভাব গানে পরছে কি না? বিষয়টা খানিক নতুন একটা বার্তা বহন করে না। কারণ পেশাগত দিক দিয়ে নিশ্চয়ই আপনি গানেই লাভবান। সেক্ষেত্রে আর্থিক প্রাপ্তি কম বলেই কি নাটকে খানিক কম সময় দেয়া?
 
আমি এমন কিছু কখনও করবো না যেটাতে আমার গানের উপর কোন প্রভাব পরে। গানকে আমি সব সময়ই বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকি। আর সারা জীবন সব কিছু ছেড়ে হলেও গান নিয়েই থাকবো।
 
IMG1
 
গান নিয়ে নতুন কি করছেন? রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইলেন। এটাও কি চমক লাগানোর স্বার্থে?
 
নতুনত্ব কিছু তো দিতেই হবে। আর রবি ঠাকুরের গানের প্রতি দুর্বলতা কার নেই বলুন। সম্প্রতি সন্ধি ভাইয়ের সঙ্গীত পরিচালনায় নতুন একটি রবীন্দ্র সঙ্গীত গাইলাম। দু'দিন হল গানটি অনলাইনে মুক্তি পেয়েছে।
 
একটা প্রশ্ন করতেই হয়। আপনি মোবাইল ব্যাবহার করেন না কেন? এই ডিজিটাল যুগেও মোবাইল বিহীন! কেমন লাগে। আপনার মায়ের কাছে সেই ছোট্ট খুকী হয়ে আছেন? নাকি অনেক ব্যক্তিগত কারও সাথে যোগাযোগের অন্য সেল ফোন আছে, যা আমাদের জানান না?
 
অনেক আগে থেকেই আমি মোবাইল ব্যাবহার করি না। আমি সব সময় গান নিয়েই থাকি। গান লিখি, গান শুনি, গানের মিউজিক কেমন হবে তা নিয়ে ভাবি তাই হঠাৎ করে মোবাইল বাজলে আমার মনোযোগ নষ্ট হয়ে যায়। মূলত এ জন্যই আমি মোবাইল ব্যাবহার করি না। আর আমার খুব ব্যক্তিগত কেউ নেই, যার সাথে আমার অন্য কোন নাম্বারে কথা বলতে হবে। আমি সবার সাথেই আম্মুর মোবাইলেই যোগাযোগ করি।
 
ইদানীং ফলোয়ার বিড়ম্বনাই নাকি জনপ্রিয়তার মূল মাপকাঠি। এটা বলে বড়াই করে অনেকে। আপনারও অনেক ফেসবুক ফ্রেন্ড-ফলোয়ার। সেক্ষেত্রে তাদের বিড়ম্বনাকে কিভাবে সামাল দিয়ে থাকেন?
 
আমি খুব পজিটিভ মনের একটি মেয়ে। তাই তাদের বিড়ম্বনাকে খুব পজিটিভ ভাবেই দেখি। সে কারণেই হয়ত আমাকে খুব বেশি বিড়ম্বনা পোহাতে হয় না। আর আমার মনে হয় তাদের বিড়ম্বনা থেকে আমার অনেক কিছু শেখার আছে। নিশ্চয়ই ফলোয়ার আমার কাছ থেকে এমন কিছু প্রত্যাশা করে না, যাতে তারা আঘাত প্রাপ্ত হয়!