ক্যাম্পাস থেকে ক্যাম্পাসে

 

এই মিশনকে

আমরা নিছক ক্যাম্পাস ভ্রমণ হিসেবে দেখছি না। আমরা মনে করি, এই মিশন আমাদের ভবিষ্যত্ কলিগদের সঙ্গে মেলবন্ধন তৈরিতে মাইলফলক ভূমিকা রাখবে। এই বন্ধন সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের, সংবাদকর্মীদের

  জুনাইদ আল হাবিব

 

‘ক্যাম্পাস টু ক্যাম্পাস’ সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের একটা প্রয়াস। এর আওতায় (প্রাথমিকভাবে যেগুলোতে সাংবাদিকতা বিভাগ রয়েছে) দেশের সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয় পরির্দশন করাটাই প্রধান লক্ষ্য। এই উদ্দেশ্য যোগাযোগে নতুন মাত্রা তৈরি করবে। বলছিলেন এই মিশনের অন্যতম উদ্যোক্তা স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ছাইফুল ইসলাম মাছুম।

সময়টা সেপ্টেম্বর ২০১৮। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দিয়ে যাত্রা শুরু হয় ক্যাম্পাস টু ক্যাম্পাস মিশনের। সেই সফরে অংশ নেয় স্টামফোর্ডের চারজন ও ইউল্যাবের একজন শিক্ষার্থী। স্টামফোর্ডের ছাইফুল ইসলাম মাছুম, আমিনুর রহমান হূদয়, হাসান ওয়ালী, মেজবাহ হাসান ও ইউল্যাবের ইয়ানুর হোসেন। ওখানে ঘুরা হয় বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ও রুয়েট। অভিজ্ঞতায় আরো যোগ হয় রেডিও পদ্মা, কালাই রুটি, বর্ণালী মোড়ের চা।

সময়টা ২০১৮ সালের নভেম্বর মাস। পরের যাত্রাটা ছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। সাংবাদিকতা বিভাগের নয়জন শিক্ষার্থী অংশ নেয় এই সফরে। সফরটা বেশ মজার ছিল বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে দেখে সদরঘাট হয়ে বিউটি বোর্টিং, বুড়িগঙ্গায় নৌ সফর, আহসান মঞ্জিল দেখা, ভসামান হোটেল দেখা।

ফেব্রুয়ারি ২০১৯ এ ক্যাম্পাস টু ক্যাম্পাসের তৃতীয় সফর ছিল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে। লঞ্চে যাত্রায় এই সফরে অংশ নেয় চারজন শিক্ষার্থী। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনের খাবার খেয়ে পুরো ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা। পরেরদিন বিএম কলেজ ও ফজলুল হক কলেজ দেখা। সফরে যোগ ছিল বরিশাল রিপোর্টার ইউনিট ভিজিট, গুটিয়া মসজিদ দেখা, দুর্গা সাগর ও শেরে বাংলা একেএম ফজলুল হকের যাদুঘর।

সাংবাদিকতা শিক্ষার্থীদের সাথে কুশল ও মতামত বিনিময় করা, সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান সঙ্গে দেখা করা, শিক্ষার্থীদের সাথে ক্লাস করা, ক্যাম্পাসে খাওয়া, হলে থাকা, আশেপাশের দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখা, ক্যাম্পাসের সংবাদকর্মী ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সাথে পরিচিত হওয়া, দিন শেষে সফররত টিম ও ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সঙ্গে নিয়ে ফেসবুক লাইভে এসে পুরো দিনের কর্মসূচির বর্ণনা করা ছিল ক্যাম্পাস টু ক্যাম্পাস মিশনের সাধারণ কর্মসূচি।

‘ক্যাম্পাস টু ক্যাম্পাস’ এ শিক্ষার্থীদের একটি স্বপ্নের নাম। ধীরে ধীরে স্বপ্নগুলো পূরণ হচ্ছে।  ভবিষ্যতে দেশের সবগুলো ক্যাম্পাস ঘুরে দেখার স্বপ্ন দেখছেন তারা। তাদের স্বপ্ন আছে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেরও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে যাওয়ার।

মাছুম বললেন, ‘এই মিশনকে আমরা নিছক ক্যাম্পাস ভ্রমণ হিসেবে দেখছি না। আমরা মনে করি, এই মিশন আমাদের ভবিষ্যত্ কলিগদের সঙ্গে মেলবন্ধন তৈরিতে মাইলফলক ভূমিকা রাখবে। এই বন্ধন সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের, সংবাদকর্মীদের। দুনিয়াজুড়ে সেরা ইজম হবে জার্নালিজম।’

এ যাত্রার অন্যতম আরেক উদোক্তা ইউল্যাবের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়ানুর হোসেন বলছিলেন, ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যের দ্বন্দ্ব নিয়ে অনেকের এখনো বৈরি মনোভাব রয়েই গেছে। যার কারণে আমরা ভাবলাম, এ দুই শিক্ষাঙ্গনের সাথে সেতুবন্ধন স্থাপনেও এটি বিশাল ভূমিকা রাখতে পারে।’