মুহিউদ্দিন নুর
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল তরুণ। তাদের মধ্যে কেউ কোদাল হাতে ময়লা পরিষ্কার করছে, কেউবা ময়লার মধ্যে কেরোসিন স্প্রে করছে আবার কেউ সেগুলো গাড়িতে উঠাচ্ছে। টানা এক সপ্তাহ ধরে তারা এই কাজ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এ ধরনের কাজ করতে দেখে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, আবার অনেকেই তাদের উত্সাহ দিয়েছেন। দীর্ঘদিন থেকে ক্যাম্পাসের সামনের এই জায়গাটি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দ্বারা ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। কথা বলে জানা গেল তারা সবাই হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮তম ব্যাচের বিভিন্ন বিভাগের ছাত্র। গ্রীন ক্যাম্পাস নামে একটা সংগঠনের পক্ষ থেকে নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে এই কাজ করেছে।
এটি আমাদের ক্যাম্পাসের একদম সম্মুখ অংশ ও মহাসড়কের পাশে হওয়ায় অনেক মানুষের প্রথম নজরেই এই ময়লার স্তূপ চোখে পড়ে। যা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে বাইরের মাঝে বিরূপ ধারণা তৈরি করে। প্রশাসন বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নিলেও তা আলোর মুখ দেখেনি, তাই আমরা বন্ধুরা মিলে ঠিক করি এসব আমরা নিজেরাই পরিষ্কার করবো। এভাবে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন গ্রীন ক্যাম্পাসের সদস্য রিফাত।
গ্রীন ক্যাম্পাসের উদ্যোক্তা কামাল জানায়, কাজটি সহজ ছিল না। আমার বন্ধু আল আমিন,আলতাফ, লাভলু, অর্জুন, ফিরোজ, মনির, আকাশ, শাকিল, রুপম, অন্তর, সজিব, প্রান্ত, সাগরসহ অনেকেই খুব সহযোগিতা করেছে। প্রশাসনের স্যাররাসহ সবাই অনেক উত্সাহ দিয়েছেন এই কাজে। জায়গাটি অত্যন্ত নোংরা হওয়ায় পরিষ্কার করতে অনেক বেগ পেতে হয়েছে। আমাদের সকলের নিজ নিজ ক্যাম্পাস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে ভূমিকা রাখা উচিত।
গ্রীন ক্যাম্পাসের এই কাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মুখ অংশ যেন তার উজ্জ্বলতা ফিরে পেয়েছে। শিক্ষার্থীদের এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুঃ আবুল কাসেম। তিনি বলেন এই ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের, পড়াশুনার পাশাপাশি তারা নিজেরা এভাবে এগিয়ে আসলে ‘ক্লিন ক্যাম্পাস, সেফ ক্যাম্পাস’ এবং ‘ক্লিন ক্যাম্পাস, গ্রীন ক্যাম্পাস’ সহজেই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। এরপর যেন এখানে আর ময়লা ফেলা না হয় সেজন্য গ্রীন ক্যাম্পাসের সদস্যরা দোকানে দোকানে যেয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করেছেন। এখন তারা এর দু’ধার দিয়ে প্রশাসনের সহযোগিতায় ফুলের বাগান করতে চান। সংগঠনের সদস্যরা জানান- এসব কাজের মাধ্যমে হাবিপ্রবি ক্যাম্পাস তথা দেশের সকল ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীর মাঝে সচেতনতা তৈরি করতে চান তারা।