বিদ্যুৎ খাতের বড় প্রকল্পগুলোতে অর্থায়নের জন্য সিঙ্গাপুরের শেয়ারবাজারে বন্ড ছাড়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এর মাধ্যমে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহ করার প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে।
দেশের বিদ্যুৎ খাতকে স্বনির্ভর ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু জানিয়েছেন।
রবিবার দুপুরে রাজধানীতে বিদ্যুৎ ভবনে ‘সিঙ্গাপুরের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পদ্ধতি’ শীর্ষক সেমিনারের পর নসরুল হামিদ বিপু সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। বাংলাদেশ এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার রিসার্চ কাউন্সিল (বিইপিআরসি) এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশাল বিনিয়োগের জন্য জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ প্রয়োজন। ২০৪০ সালের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে দরকার হবে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার। এ পরিমাণ অর্থ ব্যাংক বা ইসিএ (এক্সপোর্ট ক্রেডিট এজেন্সি) দিয়ে ফাইনান্সিং করা লাভজনক নয়। বন্ড বা শেয়ার মার্কেট হতে এ অর্থ সংগ্রহ করা গেলে আমাদের অর্থনীতির জন্য মঙ্গলজনক।
তিনি বলেন, বিনিয়োগের সম্ভাব্য সকল খাতকে আমরা উৎসাহিত করব। বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থাকে বন্ড মার্কেটে আনতে পারলে সংস্থাগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ার সাথে সাথে দক্ষতাও বাড়বে। এর মাধ্যমে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডমূল্য বাড়ার পাশাপাশি বাণিজ্যিক সুবিধাও তৈরি হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যুতখাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং এ জন্য বিনিয়োগের তথ্যও উন্মুক্ত হবে। তথ্য আরো উন্মুক্ত হলে নতুন বিনিয়োগও আসবে।
বিইপিআরসির চেয়ারম্যান ও বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আহমাদ কায়কাউস বলেন, প্রাথমিক হিসাবমতে ২০৪০ সাল নাগাদ বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রয়োজন হবে। বর্তমান সরকারি কাঠামোতে এ অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। তাই প্রথাগত হিসাবের-ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে নিজেদের সম্পদ ও দক্ষতাকে কাজে লাগাতে হবে।
তিনি বলেন, বড় প্রকল্পগুলোতে অর্থায়নের জন্য ব্যাংক ঋণ বা উন্নয়ন সহযোগিদের ঋণসহায়তা দীর্ঘমেয়াদে ভালো সিদ্ধান্ত নয়। বিকল্প অর্থায়নে যেতে হবে। আমরা এক্সপোর্ট ক্রেডিট এজেন্সি সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছি। এখন বন্ড থেকে অর্থ সংগ্রহের পালা। সার্বিক বিবেচনায় সিঙ্গাপুরের বাজারে বন্ড ছাড়াটাই আমাদের জন্য এখন সুবিধাজনক।
সিঙ্গাপুরের ড্রিউ অ্যান্ড নেপিয়ারের পরিচালক (করপোরেট অ্যান্ড ফিন্যান্স) ফারহানা সিদ্দিকী মূল প্রবন্ধে সিঙ্গাপুরের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি পদ্ধতি আলোচনার পাশাপাশি বাংলাদেশের তালিকাভুক্তির সুবিধা ও যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ একটি ভালো ক্ষেত্র। ভূতাত্ত্বিক ও আঞ্চলিক নৈকট্য বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য সিঙ্গাপুরই সবচেয়ে ভালো পছন্দ হতে পারে। লন্ডন বা নিউইয়র্কে তালিকাভুক্তিতে সময় নির্ধারণ ও বাণিজ্যিক সময় নিয়ে বিপাকে পড়তে হবে। সিঙ্গাপুরের ক্ষেত্রে তেমন সমস্যা নেই।
ফারহানা সিদ্দিকী বলেন, বৈদিশিক মুদ্রা বিনিময়ের (এফএক্স) বড় কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সিঙ্গাপুর একটি। তাই তালিকাভুক্ত কোম্পানি সহজেই সুবিধামত মুদ্রায় তার অর্থ রূপান্তর করতে পারবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিদ্যুৎ সচিব মনোয়ার ইসলাম, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক স্বপন কুমার বালা।