দু'জন এক সাথেই বুড়ো-বুড়ি হতে চাই : শখ

মডেলিং, টিভি নাটক ও চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় জুটি শখ-নিলয় বাস্তব জীবনেও জুটি বেঁধেছেন। গত ৭ জানুয়ারি তারা তাদের দীর্ঘ পাঁচ বছরের প্রেমের সফল ইতি টানলেন বিয়ের মধ্য দিয়ে। যদিও মাঝে তাদের সম্পর্কের বিরহ চলছিল অনেক দিন। তবে শেষ পর্যন্ত শোবিজ অঙ্গনে বছরের প্রথম বিয়ের সানাই বাজলো তাদের। পারিবারিক ভাবেই এক হলো দু’জনের চার হাত।
 
নতুন সংসার নতুন পথ চলা। সেই সাথে সংসার কেন্দ্রিক কিছু নতুন পরিকল্পনা। সব মিলিয়ে খুব ভাল সময় পার করছেন মিডিয়া অঙ্গনের এই আলোচিত জুটি। শোবিজ অঙ্গনের অনেকেরই বিয়ের প্রভাব পড়েছে ক্যারিয়ারে।অনেকের ক্যারিয়ারের পর্দা নেমেছে আবার অনেকেই কাজ শুরু করেছেন নতুন স্পন্দনে।সেক্ষেত্রে তাদের বিয়ের ভবিষ্যৎ বিষয়ে অনেকের মনেই রয়েছে জল্পনা-কল্পনা। আর এই বিষয়ে শখ বলেন, 'ভবিষ্যৎ বিষয়টি তো বর্তমানে বলা যায় না। সবাই চায় তার কাছের মানুষটির সাথে থাকতে। সেই জায়গা থেকে আমার ও নিলয়ের অবশ্যই সেই চাওয়া আছে, এটাই স্বাভাবিক।নতুন জীবনের শুরুতেই ভাঙ্গনের সুর নিয়ে কথা বলতে চাই না। আমারা ভাল আছি। সবার কাছে দোয়া চাই, যেদিন আমরা বুড়ো-বুড়ি হয়ে যাব সেদিনও যেন আমাদের জুটি গণমাধ্যমে ইতিবাচক শিরোনামে আসে।দু'জন এক সাথেই বুড়ো-বুড়ি হতে চাই।' 
 
IMG0
 
বিয়ের আগে বিভিন্ন জায়গাতে আড্ডা, গল্প, গান ও অনেক পারিবারিক অনুষ্ঠানেই তারা জুটি বেধে হাজির হয়েছেন বন্ধুর পরিচয়ে, কিন্তু এখন তারা হাজির হবেন নতুন একটি পরিচয়ে। এবিষয়ে শখ বলেন, 'আসলে তখন একসাথে কোন অনুষ্ঠানে যাওয়ার একটি মজা ছিল আর এখন সেই মজাটির আনন্দ দ্বিগুণ হয়েছে। মানুষের পরিচয় পরিবর্তন হলেও যে একটি অন্য রকম আনন্দ পাওয়া যায় তা আমার বিয়ে না হলে জানতাম না।'
 
শুটিংয়ে শখের খোঁজখবর নেওয়ার জন্য তার বাবা ফোন করতেন প্রায়ই।এখন শুটিং সেটে ফোন স্ক্রিনে নাম্বারগুলো হয়তো বদলে যাবে। যোগ হবে জীবনসঙ্গী বা শ্বশুর-শাশুড়ির ফোন। আর এ প্রসঙ্গে শখ ইত্তেফাককে বলেন, 'বাবা মাঝে মাঝেই শুটিং চলার সময় ফোন করে আমার খোঁজ নিতেন। এখন বাবার পাশাপাশি নিলয় ও নিলয়ের বাবা মানে শ্বশুরও ফোনে আমার খোঁজ নিচ্ছেন নিয়মিত। আর এটা খুব ভাল একটি অনুভূতি যা শুধু আমিই বুঝতে পারছি।'
 
বিয়ের আগে মাঝে মাঝে শখের বসে রান্না করতে শখ। কিন্তু এখন নতুন আত্মীয়দের আবদার রাখতে রান্না ঘরে ঢুকতে হচ্ছে তাকে। শখ বলেন, 'রান্না করতে অনেক আগে থেকেই ভাল লাগতো। কিন্তু সময় স্বল্পতার কারণে রান্না করা হতো না নিয়মিত।তবে এখন শ্বশুর-শাশুড়িকে রান্না করে খাওয়াতে হবে ভেবেই ভালোলাগে। আর আমি আগের চেয়েও অনেক বেশি আনন্দ নিয়ে এখন রান্না ঘরে ঢুকি।'
 
বিয়ের ঠিক পরপরই নিজেদের ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেছেন তারা।আর সেই ধারাবাহিকতায় হানিমুনের চিন্তা না করে এখন এক সাথে জুটি বদ্ধ হয়ে অভিনয় করছেন ভালবাসা দিবসের একটি বিশেষ টেলিফিল্মে।'