তানজানিয়ায় হাতি শুমারি

পাচারকারীদের কারণে আফ্রিকার হাতি বিপদে আছে, এটা সবাই জানে। আইভরি বেচাকেনায় আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও হাতির সংখ্যা দিন দিন কম যাচ্ছে।
 
কিন্তু এখন আফ্রিকায় কত হাতি আছে, কোথায় আছে? কয়েক লাখ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে, কুড়িটির বেশি দেশে ছড়িয়ে থাকা আফ্রিকার হাতি শুমারি খুবই কঠিন একটি কাজ।
 
যদিও মাইক্রোসফটের সহ প্রতিষ্ঠাতা, পল অ্যালেনের সহায়তায় সেই কাজ শুরু করা হয়েছে। তানজানিয়ায় হাতি শুমারির এই কাজটি চলছে আকাশ পথে।
 
জরিপকারীদের একজন. ড. এডওয়ার্ড কোহি বলছিলেন, এভাবে আকাশ থেকে হাতি খুঁজে বের করাটা খুবই সহজ।
 
এভাবে আকাশ থেকে দেখলে, কোন হাতিই আপনার চোখ এড়িয়ে যাবে না। আপনি হয়তো অনেকগুলো গ্রুপে ভাগ হয়ে হাতিদের চলাফেরা করতে দেখবেন। হয়তো আপনি জিরাফ, ইমপালা, জেব্রাও দেখতে পাবেন।
ছয় লাখ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে প্রাথমিকভাবে হাতি গণনার এই কাজটি শুরু হয়েছে। 
 
পুরো মহাদেশজুড়ে একশজনের বেশি বিজ্ঞানী, আকাশ পথে প্রতিটি হাতি গুনে তালিকা তৈরির কাজ করছেন।
 
কিলিমানজারো পাহাড়ের পাদদেশে, তারাঙ্গাগিরে ন্যাশনাল পার্কের উপর দিয়ে উড়ছে জরিপকারীদের বিমান। বিশ্বের যেকোন জায়গার তুলনায় এই পার্কের প্রতি কিলোমিটারে সবচেয়ে বেশি হাতি রয়েছে।
 
জরিপ কর্মকর্তা হাওয়ার্ড ফ্রেডরিক বলছিলেন, কিভাবে তারা জরিপের কাজ করছেন। বিমানে থাকার সময় কয়েকটি ভাগে ভাগ হয়ে হাতির সংখ্যা গণনা করি, সেই সঙ্গে ছবিও তোলা হয়।
 
কিন্তু একশ হাতি বা তার বেশি হাতি রয়েছে, এমন বড় বড় দলগুলোর সংখ্যা নির্ধারণে হয়তো অনেক সময় ভুল হতে পারে। তাই প্রতিটি গ্রুপের ছবি্ও তুলে নেয়া হয়, যা পরে মিলিয়ে দেখা হয়। এভাবে জরিপ নির্ভুল করার চেষ্টা করা হয়।
 
গত পাঁচবছরে অন্তত ষাট শতাংশ হাতি হারিয়েছে তানজানিয়ায়, সংখ্যায় অন্তত ছেষট্টি হাজার।
 
এখন দেশটির সরকার আশা করছে, এই প্রকল্প হাতি সম্পর্কে তাদের দরকারি সব তথ্য দেবে, ফলে হাতি রক্ষায় তারা কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারবে।
 
ড. ফ্রেডরিক বলেন- এই জরিপের ফলে পুরো আফ্রিকা মহাদেশের হাতি সম্পর্কে একটি পরিস্কার ধারণা পাওয়া যাবে। বিশেষ করে, বুনো হাতির বংশ বৃদ্ধি, চলাচল সম্পর্কে সহজেই তথ্য পাওয়া যাবে। ফলে গবেষকরা তো বটেই, আফ্রিকার দেশগুলোর সরকার বন আর হাতি রক্ষায় তাদের নীতি ঠিক করতে পারবে।
 
কী ঘটছে, কেন ঘটছে, হাতি রক্ষায় কোথায় জোর দেয়া দরকার, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ হবে।
 
পুরো জরিপটি শেষ করতে হয়তো কয়েক বছর লেগে যাবে। আর এই জরিপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন অনেক গবেষক।
 
বিবিসি।