প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বলেছেন, 'বিচার বিভাগকে সত্যিকার স্বাধীনতা না দিয়ে শুধু মুখে ও কাগজে কলমে বললেই হবে না। বিচার বিভাগ স্বাধীন হলেও অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন হয়নি। বিচারালয়ে চেয়ার-টেবিল কেনার জন্য বরাদ্দ দেয়ার মতো ক্ষমতাটুকু প্রধান বিচারপতি কিংবা জেলা জজদের হাতে নেই। প্রশাসন বিচার বিভাগকে এ রকম অবস্থায়ই রেখেছে। প্রত্যেক জায়গায় আমাদের প্রশাসনের মুখাপেক্ষি হতে হচ্ছে।'
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নোয়াখালী সার্কিট হাউস মিলনায়তনে নোয়াখালী জেলা জজ শিপের জুডিসিয়াল কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধান বিচারপতি বলেন, 'এক সময় বিচারক ও আইনজীবীদের মধ্যে সুসম্পর্ক ছিল। এখন সারাদেশের বিচার বিভাগে অস্থিরতা চলছে। দু পক্ষের সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। উভয় পক্ষের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করে গরীব মানুষের কল্যাণের স্বার্থে কাজ করতে হবে। '
নোয়াখালী জেলা জজ আদালতের বিভিন্ন পুরোনো মামলার জট নিস্পত্তির জন্য বিচারকদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'আগামী এক মাসের মধ্যে বন সংক্রান্ত মামলাসহ বিভিন্ন মামলা নিস্পত্তি না করা হলে বিচারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। '
প্রধান বিচারপতি পুলিশ প্রশাসনের প্রতি নির্দেশ দিয়ে বলেন, 'ধর্ষণের মামলাগুলো দ্রুত মেডিকেল রিপোর্ট নিতে হবে। না হলে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায় না। যার কারণে দোষিরা ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। ' এ বিষয়ে তিনি ডাক্তারদের দুর্নীতির কথাও উল্লেখ করেন।
যৌতুক মামলার বিষয়ে দ্রুত ও সঠিকভাবে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও বিচারকদের নির্দেশ দেন।
অনুষ্ঠানে এটর্নী জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, 'বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য জুডিসিয়াল সংগ্রাম করেছে। বিচার কার্যে সবাইকে সম্পৃক্ত করতে হবে। একই শাসক ও বিচারক এটা হতে পারে না। বিচার বিভাগকে পৃথকীকরণ পরিবর্তন কেউ কেউ মেতে নিতে পারছেন না। ক্যাডার আর নন ক্যাডারদের মধ্যে ভেতরে ভেতরে টানাপোড়েন চলছে। এই মানসিকতা সবাইকে পরিবর্তন করতে হবে।'
জেলা ও দায়রা জজ রেজা তারেক আহমদের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম জেলা জজ (২য়) মো. শওকত হোসেনের সঞ্চালনায় কনফারেন্সে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান এড. আবদুল বাসেত মজুমদার, সুপ্রীম কোর্টের রেজিস্টার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম, জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ ২য়) মো. মাহতাব হোসেন, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুরাদ এ মাওলা, জেলা প্রশাসক বদরে মুনির ফেরদৌস ও পুলিশ সুপার ইলিয়াছ শরীফ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এবিএম জাকারিয়া, জেলা জজ আদালতের জিপি কাজী মানসুরুল হক খসরু ও পিপি এটিএম মহিব উল্যাহ প্রমুখ।
পরে প্রধান বিচারপতি জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে আইনজীবীদের দেয়া সংবর্ধণা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
এর আগে সকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা জেলা জজ আদালতের বিচারকদের বিচার কার্য পরিদর্শন করেন। পরে তিনি বিকালে সদর উপজেলার ভাটিরটেক উচ্চ বিদ্যালয় অ্যাডভোকেট আহম্মদ উল্যাহ ফাউন্ডেশনের বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।