ভারতে গরুর মাংস নিয়ে দম্পতিকে হেনস্থা

 
ভারতের মধ্যপ্রদেশে গরুর মাংসের জন্য এক দম্পতিকে হেনস্থা করেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী একটি সংগঠন। ওই মুসলমান দম্পতির অভিযোগ, ট্রেনে তারা গরুর মাংস নিয়ে যাচ্ছেন, এমন অভিযোগ তুলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। খবর বিবিসির।
 
মধ্যপ্রদেশের হারদা জেলার বাসিন্দা নাসিমা বানো আর তার স্বামী মুহম্মদ হুসেইন অভিযোগ করেছেন, গোরক্ষক সমিতি নামের একটি সংগঠনের সদস্যরা গোমাংস তল্লাশির নামে তাদেরকে হেনস্থা করেছে।
 
ট্রেনে যাওয়ার সময় খিরকিয়া নামের একটি স্টেশনে ওই হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্যরা উঠে ওই দম্পতিকে বলে যে তাদের কাছে খবর আছে কেউ গোমাংস নিয়ে ট্রেনে উঠেছেন।
 
তারপর সবার ব্যাগ তল্লাশি শুরু করে তারা। এই দম্পতির ব্যাগও তল্লাশি করা হয়, কিন্তু তারপরেই শুরু হয় হেনস্থা। হুসেইন বিবিসিকে টেলিফোনে বলেছেন, প্রত্যেক যাত্রীর ব্যাগ বা সুটকেসে তল্লাশি করছিল ওরা। সব মালপত্র বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেওয়া হয়। তার স্ত্রী প্রতিবাদ করতে গেলেই স্ত্রীর হাত ধরে টানতে থাকে অভিযুক্তরা। তিনি বলেন, ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয় তার স্ত্রীকে। কিছু ব্যাগ বাইরেও ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
 
হারদার পুলিশ সুপারিন্টেনডেন্ট রামবাবু শর্মা বিবিসিকে বলেন, কুশীনগর এক্সপ্রেসে কিছু মাংস আটক করা হয়েছিল আর তা নিয়ে বিবাদ শুরু হয়। তিনি জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরেই পুলিশ বেশ কয়েকজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। তবে এলাকায় কোনও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা নেই এই ব্যাপার নিয়ে।
 
এর আগে উত্তরপ্রদেশে বাড়িতে গোমাংস রাখার গুজব রটিয়ে একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে দেশটিতে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার বিষয়টি আলোচনায় আসে। তখন এর প্রতিবাদে দেশটির অনেক বিশিষ্টজন তাদের রাষ্ট্রীয় পদক ফিরিয়ে দেন। তবে তাদের কথায় কান না দিয়ে বিজেপি শাসিত রাজ্য সরকারগুলো একের পর এক রাজ্যে গোমাংস খাওয়া নিষিদ্ধ করে।