দুই দেশের জনগণের সুবিধার্থে বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যে সরাসরি বিমান চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশে কানাডার হাই কমিশনার বিনোয়েত পিয়ারে লারামি রবিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি একথা বলেন। সাক্ষাতের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের একথা জানান।
গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেননের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন উন্নয়নে অংশীদার হতে এবং ঢাকা-টরন্টো সরাসরি বিমান যোগাযোগ প্রতিষ্ঠায় আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন কানাডার এই হাই কমিশনার।
এর পর আগস্টে যাত্রী ও পণ্যবাহী বিমান চলাচলে বাংলাদেশ ও কানাডা সরকারের মধ্যে একটি চুক্তির খসড়ায় অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। সে বিষয়ে সাংবাদিকদের জানানো হয়, এই চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে কানাডা ও বাংলাদেশের মধ্যে বিমানে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। দুই দেশই তাদের এয়ারলাইন্সকে (বিমান সংস্থা) ডেজিগনেট করতে পারবে, মনোনয়ন দিতে পারবে। যাদের মনোনয়ন দেয়া হবে তাদের বলা হবে মনোনীত বিমান সংস্থা।
কানাডার হাই কমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের পর তার প্রেস সচিব আরো জানান, বৈঠকে কানাডার নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। দুই দেশের সম্পর্ক নতুন মাত্রায় পৌঁছবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রচুর অভিবাসী কানাডায় রয়েছেন এবং তারা দুই দেশের অর্থনীতিতেই অবদান রাখছেন।
তার নেতৃত্বাধীন সরকার উন্নয়নের অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান শেখ হাসিনা। বেসরকারি খাত ও স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও উন্নয়নে কানাডার অবদানের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য পোশাক শিল্পের পাশাপাশি তথ্য-প্রযুক্তি, চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানির বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
হাই কমিশনার বলেন, কানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে চাচ্ছেন, বিশেষ করে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে। বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতের সফলতার কথা তুলে ধরে কানাডার হাই কমিশনার বলেন, বড় ধরনের অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এই দেশ।