ভারতে শত শত কোটি ডলার খরচ করে গঙ্গাকে (পদ্শা) দূষণমুক্ত করার যে অভিযান শুরু হয়েছে, তাতে ভাটির দেশ বাংলাদেশকেও সামিল করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে দিল্লি। ভারতের জলসম্পদ মন্ত্রী উমা ভারতী জানিয়েছেন, যেহেতু গঙ্গার প্রবাহ কলুষমুক্ত হলে বাংলাদেশও উপকৃত হবে তাই তিনি চান তারাও এই অভিযানে অংশীদার হোক এবং সেই মর্মে তিনি শিগগিরই ঢাকাকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণও জানাবেন। ভারতে নদী-বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন, যেহেতু পুরো নদী-অববাহিকাকে নিয়েই এই গঙ্গা-অভিযান শুরু হয়েছে তাই বাংলাদেশেরও এখানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার যথেষ্ট সুযোগ আছে। খবর বিবিসি’র।
ভারতে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারের সবচেয়ে হাই-প্রোফাইল প্রকল্পগুলোর একটি হল ‘নমামি গঙ্গে’ যার অধীনে ন্যাশনাল মিশন ফর ক্লিন গঙ্গা বিপুল অর্থ খরচ করে দেশের এই প্রণদীকে দূষণমুক্ত করে তাতে পানির প্রবাহ বাড়ানোর কাজ শুরু করেছে। এই মিশনের মূল দায়িত্বে আছেন কেন্দ্রীয় পানি সম্পদমন্ত্রী উমা ভারতী। তিনি জানিয়েছেন, এই অভিযানে বাংলাদেশকেও যুক্ত করা গেলে তিনি খুশি হবেন।
ভারতী বলছেন, ‘ভারত আর বাংলাদেশ উভয়কেই দারিদ্র্য আর বেকারত্বের বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে আর দুদেশের সম্পর্ক উন্নয়নে কিন্তু জলসম্পদের একটা বড় ভূমিকা আছে। আমি এর পরেই যখন সুযোগ পাব তখন তাদের সঙ্গে এই প্রসঙ্গটি তুলব যাতে গঙ্গা অভিযানে বাংলাদেশও সামিল হতে পারে। তিনি আরো জানান, গঙ্গা যখন পদ্মা হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে, তার আগে উজানের প্রকল্পগুলো যদি শোধরানো যায় তাহলে তো বাংলাদেশই দূষণমুক্ত জল পাবে, এতে তো তাদেরও লাভ।
মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো জানিয়েছে, ভারত এই প্রকল্পে বাংলাদেশের কাছ থেকে কোন আর্থিক ভূমিকা প্রত্যাশা করছে না বরং চাইছে মিশনের বৈঠকে তাদের প্রতিনিধিরাও যোগ দিন, গঙ্গার দূষণ কমাতে ও প্রবাহ বাড়াতে তাদের মতামত দিন। পরবর্তী যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকে যোগ দিতে উমা ভারতী যখন ঢাকায় আসবেন, তখনই ঢাকাকে এ ব্যাপারে আমন্ত্রণ জানানো হবে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। কিন্তু ভাটির একটি দেশ কীভাবে উজানে সমর্থক ভূমিকা রাখতে পারে? বিশিষ্ট নদী-বিশেষজ্ঞ ও পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের প্রধান কল্যাণ রুদ্র বলছিলেন, গঙ্গা অববাহিকায় সেটা কিন্তু মোটেই অসম্ভব নয়। ড. রুদ্র বলছেন, গঙ্গার নিম্ন অববাহিকায় এমন বহু নদী আছে যেগুলো বাংলাদেশ থেকে আবার ভারতে ঢুকেছে। যেমন সুন্দরবনের বহু নদী, ইছামতী বা চূর্ণী।