বহিষ্কৃত দলিত শিক্ষার্থীর আত্মহত্যায় ভারতে তোলপাড়

হায়দ্রাবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গবেষণা শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা এবং এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বান্দারু দত্তত্রেয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে ভারতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী দত্তত্রেয়া ছাড়াও হায়দরাবাদ সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে দলিত সম্প্রদায়ের ওই শিক্ষার্থীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে।
 
বিষয়টি খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন। আত্মহত্যা করা ওই শিক্ষার্থীর নাম রোহিথ ভেমুলা। রোববার ছাত্রাবাসে নিজের কক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রোহিত ছাড়াও দলিত সম্প্রদায়ের আরও চারজন শিক্ষার্থীকে গত ডিসেম্বর বহিষ্কার করে। তাদের ওপর ছাত্রাবাস ও ‘কমন এরিয়ায়’ প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। বারবার ওই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আবেদন করেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে শেষ পর্যন্ত রোহিথ আত্মহত্যা করেন।  আত্মহননের কারণ উল্লেখ করে তিনি ছয়পাতার একটি চিঠি লিখে গেছেন, যাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দায়ী করা হয়েছে।
 
পুলিশ দত্তত্রেয়া, উপাচার্য আপ্পা রাও পদিলে, বিজেপির এমপি রামাচন্দ্র রাও এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্র নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়েছে। প্রশান্ত নামে এক দলিত শিক্ষার্থী তাদের বিরুদ্ধে রোহিথকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেছেন। ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়কও একই অভিযোগ করেছেন। রোহিতের আত্মহত্যার পর শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে। পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের খবরও পাওয়া গেছে। প্রশান্তের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দত্তত্রেয়া রোহিথকে আত্মহত্যা করতে ‘বাধ্য’ করেছে।
 
ফেসবুক থেকে নেয়া ফেসবুক থেকে নেয়া মুম্বাইয়ে বিস্ফোরণের ঘটনায় গত বছর  জুলাইয়ে ইয়াকুব মেমনের ফাঁসির রায় কার্যকর করা নিয়ে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) সঙ্গে সংঘর্ষের অভিযোগে গত বছর জুলাইয়ে রোহিথ ও তার গবেষণা সহকারীদের বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। রোহিথরা ছিলেন দলিত গ্রুপ আম্বেদকার স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য। যদিও আগস্টে প্রক্টোরিয়াল বোর্ডের তদন্তে রোহিথ ও তার সহকর্মীদের হাতাহাতিতে জড়িত থাকার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে টাইম অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়।
 
ওই সময় দত্তত্রেয়া এ ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন এবং মানবসম্পদমন্ত্রী ইরানিকে একটি চিঠি লেখেন। ১২ আগস্ট পাঠানো ওই চিঠিতে তিনি সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘জাতপাতবাদী, চরমপন্থি ও দেশবিরোধী রাজনীতির’ আখড়া বলে বর্ণনা করেন। তার ওই চিঠি এবং ক্যাম্পাসে বিজেপি ও এবিভিপি’র কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে ওই একই প্রক্টোরিয়াল বোর্ড রোহিথসহ পাঁচ দলিত শিক্ষার্থীকে দোষী সাব্যস্ত করে ডিসেম্বরে তাদের বহিষ্কার করে। প্রতিবাদে ওই পাঁচ শিক্ষার্থী খোলা আকাশের নীচে শুয়ে রাত কাটান। তেলেঙ্গানা রাজ্য সরকারও এই বহিষ্কারাদেশ বাতিলে কেন্দ্র সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করে। এরই এক পর্যায়ে রোহিথ আত্মহত্যা করেন। তাদের বহিষ্কারের পিছনে দত্তত্রেয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর ভারতের বিরোধীদলগুলো তার পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। দ্য হিন্দু।