নাগরিক সমস্যা সমাধানে এটুআই’র উদ্যোগ

বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর ৬০ ভাগই তরুণ। আর এই মেধাবী তরুণরাই পারে দেশের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে। ইতোমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের তরুণরা এরই মধ্যে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক্সেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) আয়োজন করতে যাচ্ছে Solve-A-Thon নামের বিশেষ প্রতিযোগিতার। ১০টি সামাজিক সমস্যা সমাধানের জন্য এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা ২০১৬ এর জেলা পর্যায়ের মেলাগুলোতে এর প্রাথমিক রাউন্ড অনুষ্ঠিত হবে।  মূলত দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ ঘটাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের নাগরিক সমস্যারও সমাধান মিলবে। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী কার্যক্রমেরও স্বীকৃতি পাবে যা তাদের আরও নতুন নতুন উদ্ভাবনে উত্সাহ যোগাবে।
 
এ প্রতিযোগিতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক্সেস টু ইনফরমেশন প্রোগ্রামের ইনোভেশন টিমের পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘দেশের মেধাবী তরুণদের নাগরিক সমস্যা সমাধানে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে এটুআই প্রোগ্রাম থেকে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা যেন আমাদের চারপাশের নাগরিক সমস্যার সমাধান নিয়ে চিন্তা করে এবং তাদের জ্ঞান ও মেধার মাধ্যমে তার সমাধানে এগিয়ে আসতে পারে সেজন্যেই সারাদেশব্যাপী আয়োজিত হচ্ছে Solve-A-Thon শীর্ষক প্রতিযোগিতা। দশটি নাগরিক সমস্যাক্ষেত্র থেকে যেকোনো একটি নাগরিক সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা আমাদের তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানাচ্ছি, কারণ আমরা বিশ্বাস করি তাদের মেধা, জ্ঞান ও তারুণ্যদীপ্ত সমাধানই আমাদের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’
 
যেভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে :
 
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের (প্রকৌশল, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা ডিগ্রি কলেজ) যেকোনো শিক্ষার্থী এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। অংশ নেওয়ার জন্য একই কিংবা ভিন্ন ভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ ৪ সদস্যের দল গঠন করে নেওয়া যাবে। প্রতিটি দলে একজন শিক্ষককে পরামর্শদাতা হিসেবে থাকতে হবে। নিবন্ধনের জন্য এটুআই’র ওয়েবসাইটে (http://a2i.pmo.gov.bd/solve-a-thon) নিবন্ধন ফরম পাওয়া যাবে।
 
অংশগ্রহণের ১০ বিভাগ :
 
১০টি নাগরিক সমস্যা সমাধানের জন্য অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে এই প্রতিযোগিতায়। এগুলো হলো—খাদ্য নিরাপত্তা, নিরাপদ সুপেয় পানি, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, নবায়নযোগ্য জ্বালানী, কৃষি ও কৃষক, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সহযোগী, জীবন রক্ষাকারী কার্যক্রম, মশা নিধন, নাগরিক সমস্যা সমাধানকারী যেকোনো প্রকল্প। কোন সমস্যা এবং তার সমাধান প্রথম ৯টি বিভাগের অন্তর্ভুক্ত না হলে শেষের বিভাগটির আওতায় সেটি অংশ নেওয়া যাবে।
 
মূল্যায়ন :
 
অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে নির্ধারিত ১০টি সমস্যার যেকোনো একটি নিয়ে কাজ করতে হবে। নিজ জেলায় অনুষ্ঠিত ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলায় তাদের সমাধানের একটি প্রোটোটাইপ প্রদর্শন করতে হবে বলেও জানয়েছে এটুআই। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে উদ্ভাবন মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে যেখানে ইনোভেশন সার্কেল এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপর বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এ ছাড়াও সেখানে থাকবেন এটুআই প্রতিনিধিও।  জেলা পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ তিনটি দলকে বিজয়ী নির্বাচন করা হবে যারা বিভাগীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় রাউন্ডে অংশ নেবে। দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে অনধিক ৩০টি দল বুটক্যাম্পে অংশ নেয়ার সুযোগ পাবে এবং তারাই চূড়ান্ত পর্বে অংশ নিবে। বিজয়ী তিনটি দল পাবে ২ লক্ষ ২৫ হাজার টাকারও বেশি পুরস্কার। চূড়ান্ত সমাধানসমূহ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে এটুআই প্রোগ্রাম। এটুআই সূত্র থেকে জানা গেছে, ইতোমধ্যে অনলাইনে শতাধিক টিম নিবন্ধন সম্পন্ন করেছে এবং প্রায় ১০টি জেলায় ১২৫টি টিম এই আয়োজনে অংশ নিয়েছে।