প্রযুক্তিপণ্যের বাজারে গুগল যেখানেই হাত রাখে সেখানেই ফুটে ফুল। ফোনের পর এবার ট্যাবলেট বাজারেও ঢুঁ মেরে এই প্রবাদ-তুল্য কথাটাকে আবারও প্রমাণ করল সার্চ জায়ান্ট থেকে প্রযুক্তি জায়ান্টে পরিণত হওয়া এই প্রতিষ্ঠান।
ব্যাপারটা অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য মোটেই সুখকর নয়। কারণ, খেয়ালের বশে কোনো কাজ করার রেকর্ড নেই এই মার্কিন প্রতিষ্ঠানের। ট্যাবলেট বাজারে শক্ত একটা অবস্থান তৈরির ভাবনা থেকেই এদিকে মন দিয়েছে জায়ান্ট এই প্রতিষ্ঠান। আর এর প্রমাণ পিক্সেল সি।
ডিভাইসটি বিশ্বের সেরা ট্যাবলেট হিসেবে ইতোমধ্যে সমালোচকদের কাছ থেকে প্রশংসা আদায় করে নিয়েছে।
ডিজাইন
ট্যাবলেটটির পেছনে ফ্ল্যাট বডিতে অ্যালুমিনিয়ামের ফিনিশ দেওয়া হয়েছে, যা এক কথায় মসৃণ এবং নজরকাড়া। এটি এমন এক ডিভাইস যা হাতে নেওয়ার পর এর প্রতি ইঞ্চিকে প্রিমিয়াম মনে হবে।
পুরু ও মজবুত, দুটো করতে যেয়েই হয়তো ট্যাবটি একটু ভারি হয়ে গেছে। ওজন ৫১৭ গ্রাম। কিন্তু বহনে তা খুব বেশি সমস্যা করবে না।
ডিসপ্লে
১০.২ ইঞ্চির চোখ ধাঁধানো ডিসপ্লের অধিকারী এই ট্যাবটি। এর রেজ্যুলেশন ২৫৬০*১৮০০ পিক্সেল, যে সংখ্যাটা বাজারের সেরা ডিসপ্লের ট্যাবলেট আইপ্যাড এয়ার ২-কে সহজেই পেছনে ফেলে দেয়। তাই ডিসপ্লেটি একেবারে ক্রিস্টাল ক্লিয়ার। কালার রি-প্রোডাকশন যেমন ভালো, উজ্জ্বলতাও অনেক বেশি। পরীক্ষা করে দেখা গেছে, পিক্সেল সি এর ডিসপ্লে বাজারের সব ট্যাবলেট থেকে ২৫ শতাংশ বেশি উজ্জ্বল।
কিবোর্ড
ট্যাবটিকে ল্যাপটপ হিসেবে ব্যবহার করার জন্য সাথে একটা কিবোর্ডও থাকছে। কোন পিন অথবা হিঞ্জের মত ঝামেলার জিনিস দ্বারা এটা লাগানো হয় না। ট্যাবটি কিবোর্ডের কোনায় আনলেই চুম্বকের সাহায্যে আটকে যাবে।
কিবোর্ডে টাইপিং যথেষ্ট দ্রুত ও আরামদায়ক। বাটনগুলোও বড় বড়, তাই একটা চাপতে আরেকটা চেপে ফেলার সম্ভাবনা নেই।
IMG0
পারফরমেন্স
স্পেক শিটে ডিভাইসটির কোন ঘাটতি নেই। প্রসেসর রয়েছে ১.৯ গিগাহার্জ কোয়াড কোর ও র্যা ম রয়েছে ৩ জিবি। কিছুক্ষণ চালালেই বোঝা যায়, কতটা শক্তিশালী এই ডিভাইস। এমন কিছুই নেই যা একে এক সেকেন্ডের জন্য ধীর গতির করে দিতে পারে। প্লেস্টোরের সবচেয়ে হাই গ্রাফিক্স গেইমকেও ল্যাগের কাছাকাছি আসতে দেখা যাবে না।
ইন্টারনাল মেমোরির দুটি সংস্করণ থাকছে, ৩২ জিবি ও ৬৪ জিবি। মেমোরি কার্ডের কোন স্লট নেই, তাই এই ৩২ বা ৬৪ জিবি মেমোরিতেই আটকে থাকতে হবে।
ক্যামেরা
পেছনে ৮ মেগাপিক্সেল ও সামনে ২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা ভালো কোয়ালিটির ছবি তুলে দিলেও তা স্মার্টফোনের মত হবে না। সাধারণ ফটোগ্রাফির জন্য এই ক্যামেরা ব্যবহার করা যাবে। কিন্তু কোন গুরুত্বপূর্ণ মূহুর্তে, যেমন গ্রুপ ফটো তোলার সময়, স্মার্টফোন ক্যামেরাই আরও ভালো কাজে দেবে।
ব্যাটারি
গুগল ১০ ঘণ্টা ব্যাটারি লাইফ দাবি করলেও তা পুরোটুকুই নির্ভর করে ব্যবহারকারীর ব্যবহারের ওপরে। ব্রাইটনেস কমিয়ে, গেইম কম খেলে, অথবা হাই কোয়ালিটি ভিডিও না দেখে সহজেই ৮ বা ৯ ঘণ্টা চালাতে পারবেন গুগল পিক্সেল সি দিয়ে।
IMG0
মূল্য
পিক্সেল সি এর ৩২ জিবির সংস্করণ ৪৫ হাজার থেকে ৫৫ হাজার টাকা ও ৬৪ জিবির সংস্করণ ৫৫ হাজার থেকে ৬৫ হাজার টাকায় পাওয়া যাবে।
এক নজরে ভালো
– দারুণ ডিসপ্লে
– সুন্দর ডিজাইন
– নিখুঁত পারফরমেন্স
এক নজরে খারাপ
– ভারি
– মেমোরি কার্ড স্লট নেই