কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর ২০১০ এ আমরা বই দিলাম। সেই বই দেয়ার পথে কি যে বাধা, বিজি প্রেসে বই ছাপার কাগজে আগুন দেয়া হল। ঢাকার আশপাশের যত দমকল বাহিনী ছিল তাদের দিয়ে আগুন নেভাতে তিন দিন লেগেছিল। তারপরও পহেলা জানুয়ারি সমস্ত শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই তুলে দিয়েছি।
মন্ত্রী বলেন, সে দিন একটি কাগজে পড়লাম, এক বিজ্ঞজন লিখেছেন, প্রতি বছর নতুন বই দিয়ে কি টাকার অপচয় হচ্ছে না? এমন তীর্যক প্রশ্ন রেখছেন। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘তাকে আমি বলব, গ্রামে যান, নতুন বই নিয়ে একটি ছাত্র যখন গন্ধ শুকে এবং তার মুখে যে তৃপ্তিটা থাকে তা একবার গিয়ে দেখে আসেন। তাহলেই বুঝবেন এটা অপচয় নয়, এটা বিনিয়োগ, শিক্ষার জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ।’
শুক্রবার দুপুরে গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়াল মির্জাপুর হাজী জমির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মতিয়া চৌধুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যালয় আলো দেয়, আলো জ্বালায়, সেই আলোতে কেউ পুড়ে না। সেই আলোতে মানুষ উজ্জ্বল হয়।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল বাংলার মানুষ যেন ক্ষুধায় অন্ন পায়, পরনে বস্ত্র পায়, রোগে চিকিৎসা পায়, মাথা গুজার ঠাঁই পায়, একই সঙ্গে শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়। আমাদের প্রধানমন্ত্রী পিতার সেই অসমাপ্ত স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার জন্য শিক্ষার ওপর যে গুরুত্ব দিয়েছেন, এই গুরুত্ব ইতোপূর্বে কেউই দেয়নি। এটি আমরা বিনয়ের সঙ্গে দাবি করছি। অহংকার করছি না, গর্ববোধ করছি। কেননা গত ১ জানুয়ারি প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে বই দেয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. মোহসীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোজাম্মেল হক খান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপণা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ কামাল, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম আলম, পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনিল চন্দ্র সরকার প্রমুখ।