ব্রাজিলে অস্বাভাবিক ছোট মাথার শিশু জন্ম নিচ্ছে। গত অক্টোবর থেকে এই সংখ্যা প্রায় চার হাজারে এসে দাঁড়িয়েছে।
ব্রাজিলের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সন্দেহ, জিকা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণেই এমনটি ঘটছে। বিবিসি বলছে, ২০১৪ সালে মাত্র ১৫০ শিশু ছোট মাথা নিয়ে জন্মেছে। মেডিক্যাল পরিভাষায় শিশুদের এই অবস্থাকে বলা হয় ‘মাইক্রোসেফালি’। সবচেয়ে আক্রান্ত অঞ্চলের প্রায় ১ ভাগ নবজাতক ছোট মাথা নিয়ে জন্মেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ছোট মাথার কারণে মস্তিষ্কের অবস্থা প্রাণঘাতী হতে পারে কিংবা বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতা অথবা শারীরিক বৃদ্ধি বিলম্ব হতে পারে। এ পরিস্থিতির কারণে ল্যাটিন দেশ কলম্বিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মায়েদের এখন গর্ভধারণে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে অস্বাভাবিক ছোট মাথা নিয়ে শিশুদের জন্মগ্রহণ করার সঙ্গে এখনো পর্যন্ত জিকা ভাইরাসের কোনো সম্পর্কের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অবশ্য অল্প সংখ্যক শিশুমৃত্যুর ঘটনায় তাদের মস্তিষ্কে জিকা ভাইরাসের অস্থিত্ব পাওয়া গেছে। অস্বাভাবিক ছোট মাথা নিয়ে শিশুজন্মের অন্যকোনো ব্যাখ্যা এখনো পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। এডিস মশাবাহিত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে প্রতি পাঁচজনে একজনের শরীরে তার উপসর্গ দেখা দেয়। এই একই মশা ডেঙ্গু রোগের জন্যও দায়ী। ব্রাজিলে জিকা ভাইরাসের সংক্রমণ স্মরণকালের বৃহত্তম প্রাদুর্ভাব বলে দাবি করা হচ্ছে। ছোট মাথার কারণে ব্রাজিলে ৪৯টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, এদের মধ্যে পাঁচটি শিশুর শরীরে জিকা ভাইরাসের অস্থিত্ব পাওয়া গেছে।
মেডিক্যাল পরিভাষায় শিশুদের ছোট মাথা নিয়ে জন্মানোর সমস্যাটিকে বলা হয় ‘মাইক্রোসেফালি’। মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ছোট মাথার শিশুদের মধ্যে ৯০ ভাগই উত্তর-পূর্বাঞ্চলে জন্ম নিয়েছে। রিও ডি জেনেরিও এবং সাও পাওলোসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ৬ ভাগ শিশু এই সমস্যা নিয়ে জন্মেছে। রিও ডি জেনেরিওতে অাগস্টে বিশ্বে খেলাধুলার সর্ববৃহৎ আসর অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। শহরটিতে আনুমাণিক ১০,৫০০ অ্যাথলেট ও বিপুল সংখ্যক দর্শক-পর্যটক জমায়েত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জিকা ভাইরাস একটি বড় মাথা ব্যথার। বিবিসি ও রয়টার্স।