ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি সঙ্গে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস একান্ত বৈঠক করেছেন।
বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম চলাকালীন তাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। চল্লিশ মিনিট স্থায়ী এ বৈঠকে ভারতের অর্থমন্ত্রী সেদেশের মুদ্রা ও ব্যাংক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
উল্লেখ্য, ক্ষুদ্র উদ্যেক্তাদের ক্ষুদ্রঋণ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণে রিফাইসান্সিং সুবিধা প্রদানের জন্য ভারতে সম্প্রতি মুদ্রা ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রফেসর ইউনূস এই সুযোগে ভারতের ক্ষুদ্রঋণ এনজিও-দের ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংকে পরিণত হতে ব্যাংকিং লাইসেন্স প্রদানের দৃঢ় পদক্ষেপের জন্য ভারতীয় অর্থমন্ত্রীর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দরিদ্র মানুষের কাছে আর্থিক সেবা পৌঁছে দিতে এটি সবচেয়ে যথাযথ পদক্ষেপ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এর মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো আত্ম-নির্ভরতা অর্জন করতে পারবে। তিনি সম্প্রতি প্রবর্তিত ভারতের নতুন কর্পোরেট সামাজিক দায়িত্ব (সিএসআর) আইনেরও প্রশংসা করেন। এই আইনে ব্যবসাগুলোকে তাদের মুনাফার ২% সিএসআর কর্মকাণ্ডের জন্য আলাদা করে রাখতে হবে। প্রফেসর ইউনূস সিএসআর-এর অর্থ দ্বারা বাস্তবায়নকৃত কর্মকাণ্ডের তালিকায় সামাজিক ব্যবসাকেও অন্তর্ভুক্ত করা অর্থমন্ত্রী জেটলিকে অনুরোধ করেন।
IMG0
ভারতীয় অর্থমন্ত্রী বেকার তরুণদের উদ্যোক্তায় পরিণত হতে উৎসাহিত করতে তার সরকারের কর্মসূচি বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এক লাখের বেশি তরুণকে ইতোমধ্যে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। প্রফেসর ইউনূস এ সময়ে ভারতীয় অর্থমন্ত্রীকে বিশ্বব্যাপী ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি ভারতসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সামাজিক ব্যবসার সম্প্রসারণ সম্পর্কেও ভারতের অর্থমন্ত্রীকে ধারণা দেন। অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশে সামাজিক ব্যবসা কর্মসূচি এবং এই কর্মসূচি কিভাবে বাংলাদেশের বেকারদের উদ্যোক্তায় পরিণত করছে - এ বিষয়ে প্রফেসর ইউনূসের নিকট বিস্তারিত জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং এ বিষয়ে ভারতীয় কর্মসূচি ও বাংলাদেশের কর্মসূচির মধ্যে পার্থক্য কী তা জানতে চান।