পাশের দেশ থেকে মাদকের অনুপ্রবেশ ঘটছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, মাদকের বিস্তার রোধে আমাদের কঠোর আইন রয়েছে। পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ সব সেক্টর মাদক প্রতিরোধে কাজ করছে। এরপরেও আমাদের দেশে মাদকের অনুপ্রবেশ ঘটছে। মাদকের ব্যবহার বন্ধ এবং প্রতিবেশি দেশ ভারত, মায়ানমার থেকে যাতে মাদক অবৈধভাবে ঢুকতে না পারে সেটাকে আরো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
 
রাজধানীর বিএফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে সপ্তাহব্যাপী মাদকবিরোধী বিতর্ক উৎসব-এর গ্র্যান্ডফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মাদকের কুফল তুলে ধরে সভাপতি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান।
IMG0
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কখনই মাদক উৎপাদন ও সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত নয়। প্রতিবেশি দেশ থেকে অবৈধভাবে মাদক প্রবেশের কারণে দেশের তরুণরা বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। বর্তমানে তরুণ সমাজকে যেভাবে বিপদগ্রস্থ হচ্ছে সেটি থেকে অবশ্যই তাদের বের করে আনতে হবে। তবে তিনি এই ছায়াসংসদে বিতার্কিকদের বক্তব্য শুনে আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন।  একই সাথে তিনি বলেন, এই তরুণরাই পারবে মাদকাসক্তি মুক্ত বাংলাদেশের হাল ধরে এগিয়ে নিতে।
 
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান বলেন, দেশের স্বপ্নময় শিক্ষার্থীদের মাঝে শুরু থেকেই মাদকবিরোধী মনোভাব জাগ্রত  করতে হবে। যাতে করে আগামীতে কোনো প্রলোভন বা কৌতুহলে তারা মাদকের হাতছানিতে সাড়া না দেয়।
IMG1
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, মাদকের বিস্তারের পাশাপাশি চাহিদা কী কারণে বাড়ছে তার কারণ অনুসন্ধান করতে হবে। তবে দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, প্রতিহিংসামূলক ঘটনা, হানাহানি, কর্মসংস্থানের অভাব, শিক্ষার প্রতিকূল পরিবেশ মাদকের বিস্তারে প্রভাব রাখছে। সমাজ ও রাষ্ট্রে সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মধ্যে দিয়েই মাদককে প্রতিরোধ করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
IMG2
প্রতিযোগিতায় ঢাকা ক্যান্ট. পাবলিক গার্লস কলেজ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এতে রানার আপ ও তৃতীয় স্থান অধিকার করে শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজ এবং সাউথ পয়েন্ট কলেজ। চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল- রাজনৈতিক অঙ্গীকারই পারে মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে। প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন, রানার আপ ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলকে যথাক্রমে নগদ ৫০ হাজার, ২৫ হাজার ও ১৫ হাজার টাকাসহ ট্রফি ও ক্রেস্ট পুরস্কার হিসেবে প্রদান করা হয়। চ্যাম্পিয়ন দল  ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট গার্লস পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিতার্কিকরা হলো-কানিজ মেহজাবিন মেহের তোরসা, মার্জিয়া কবীর ও রওশন জাহান তামান্না । রানার আপ দল শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজের বিতার্কিকরা হলো- মাহমুদ হাসান রাজ, নাফিসা আঞ্জুম এবং ফারিহা ইসলাম। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আমির হোসেন, পরিচালক নাজমুল আহসান মজুমদার, সৈয়দ তৌফিক উদ্দিন আহমেদ, আবু তালেব প্রমুখ।