রাজনীতির স্বার্থে এবং জনগণের ‘বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে’ মন্ত্রিসভা থেকে জাতীয় পার্টির সদস্যদের বেরিয়ে আসা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন দলের কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তিনি বলেছেন, ‘জাতীয় পার্টির অবস্থান জনগণের কাছে অস্পষ্ট। কারণ জাতীয় পার্টি একদিকে বিরোধী দল, আবার অন্যদিকে সরকারের মন্ত্রিসভায় আছে।’
মঙ্গলবার ঢাকার বনানীতে দলীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে জাতীয় সংস্কৃতি পার্টি আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের ছোট ভাই কাদের এসব কথা বলেন।
গত ১৭ জানুয়ারি জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়ার পর এই প্রথম দলীয় বিষয়ে কোনো অনুষ্ঠানে কথা বললেন বিগত মহাজোট সরকারের মন্ত্রী জি এম কাদের। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রশাসন, অর্থবল, পেশিশক্তি নেই, একমাত্র শক্তি জনসমর্থন। এটা যদি না থাকে, তাহলে আমরা শূন্য। কিন্তু আমাদের জনসমর্থনও দিন দিন কমতে কমতে তলানিতে ঠেকেছে। ভোটের রাজনীতিতে আমরা রাজনীতি ও ভোটবিহীন অবস্থায় পৌঁছে গেছি। গত পৌরসভা নির্বাচনে তা স্পষ্ট দেখা গেছে।’
জাতীয় পার্টি কারও ক্ষতি চায় না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘কারও বিরুদ্ধে আমাদের কোনো ক্ষোভ নেই। বক্তব্য একটাই, আমরা কোয়ালিশন বিরোধীদল চাই না। আমরা জনগণের হয়ে কথা বলতে চাই, জনগণের আস্থা অর্জন করতে চাই। কারণ, জনগণ চাচ্ছে আমরা যেন এগিয়ে যাই। এটা আমার কথা না, দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের কথা।’
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রী, মশিউর রহমান রাঙা স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী এবং মুজিবুল হক চুন্নু শ্রম প্রতিমন্ত্রী। আর এরশাদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘বিশেষ দূত’।