বলিউডের চলচ্চিত্রে পাকিস্তানি নায়িকা নতুন কোনো বিষয় বা ব্যাপার নয়। এটা চলে আসছে আরও অনেক আগে থেকেই। আগামী সপ্তাহে ‘সনম তেরি কসম’-এ নতুন এক পাকিস্তানি নায়িকার অভিষেক হতে চলেছে। নাম তার মাওরা হুসেন। করাচিতে জন্ম হলেও মাওরা বড় হয়েছেন ইসলামাবাদে। ২৩ বছর বয়সী এই সুন্দরী একসময় পাকিস্তানি টিভিতে ভিজে হিসেবে বেশ সাড়া জাগিয়েছিলেন। মঞ্চ নাটক করেছেন। টিভি পর্দায় অভিনেত্রী হিসেবে দারুণ জনপ্রিয়তাও অর্জন করেছিলেন। আর মডেলিং করেছেন চুটিয়ে। সবশেষে চলচ্চিত্রের নায়িকা হিসেবে তাকে দেখা গেছে গত কয়েক বছর ধরে। এখানে সাফল্যের প্রমাণ দিয়ে সম্ভাবনাময় অভিনেত্রী হিসেবে একটি আলাদা অবস্থানে পৌঁছে গেছেন। বলিউডে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে এর আগেও বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি নায়িকার আপ্রাণ চেষ্টা প্রত্যক্ষ করেছেন সবাই। যদিও তারা কেউই বলিউডে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেননি। পূর্বসূরি পাকিস্তানি অন্যান্য নায়িকার ব্যর্থতা দেখে মাওরা হতোদ্যম হননি, অনেকটা আত্মবিশ্বাসী মনোভাব নিয়ে অভীষ্ট লক্ষ্যের দিকে এগোতে চাইছেন। ‘সনম তেরি কসম’-এ মাওরা অভিনয় করেছেন দক্ষিণী চলচ্চিত্রের নায়ক হর্ষবর্ধন রানের বিপরীতে। এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে হর্ষবর্ধনেরও বলিউডে অভিষেক হচ্ছে। একই নামে এর আগে বলিউডে আরও দুটি চলচ্চিত্র হয়েছে। যদিও এবারের ‘সনম তেরি কসম’ আগের কোনোটির রিমেক কিংবা সিক্যুয়াল নয়, এক জোড়া তরুণ-তরুণীর মন ছুঁয়ে যাওয়া প্রেম কাহিনি নিয়ে নির্মিত। এ চলচ্চিত্রে মাওরা অভিনয় করেছেন পুতুল সেজে দোকানে আগত ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার কাজে নিয়োজিত খুব সাধারণ একটি মেয়ে ‘সারু’র চরিত্রে। যাকে কেউ ভালোবাসতে আগ্রহী না হলেও একসময় অভিজাত পরিবারের সন্তান ইন্দর তার প্রতি আকৃষ্ট হয়। ইন্দর-সারু পরস্পরের প্রেমে গভীরভাবে জড়ালেও কিছু অভিশপ্ত অধ্যায় তাদের মিলনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। রোমান্টিক মেজাজের এ চলচ্চিত্রের গানগুলো এরমধ্যেই শ্রোতা-দর্শকদের হূদয়ে অনুরণন তুলেছে। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে ‘সনম তেরি কসম’ ছবির গানের দৃশ্যে নতুন নায়ক-নায়িকা জুটি হর্ষবর্ধন-মাওরা দর্শকদের চমকিত করেছেন। বলিউডে নিজের প্রথম অভিনীত চলচ্চিত্রটি নিয়ে উচ্ছ্বাসিত মাওরা বলেন, ‘চমত্কার প্রেমের এ চলচ্চিত্র আশা করি সব দর্শকের ভালো লাগবে। ‘আশিকি টু’-এর মতো দর্শক পছন্দ করবে এটিও। আমি মন-প্রাণ ঢেলে কাজ করেছি, দর্শকদের হূদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতো অভিনয় করে। আমার বিশ্বাস, ২০১৬-এর সেরা নতুন মুখের সবগুলো পুরস্কার পাব আমি।’ পাকিস্তানি চলচ্চিত্র-টিভি জগতের পরিবেশের তুলনায় বলিউডের পরিবেশ অনেকটা ভিন্ন হলেও মাওরা এর সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে চেষ্টা করছেন। ‘আমি বলিউডের তিনটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। এরমধ্যে একটির কাজ শেষ করেছি, বাকি দুটির কাজও শুরু হবে। আপাতত বলিউডে আমার ব্যস্ততা থাকলেও পাকিস্তানের শোবিজ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিইনি। সেখানেও বেশ কয়েকটি নতুন চলচ্চিত্রে অভিনয়ের কথা চলছে। বলিউডে আমার ক্যারিয়ার জমে উঠবে, এর অপেক্ষায় রয়েছি,’ মাওরা বলেন। কিছুদিন আগে বলিউডি সিনেমা ‘ফ্যান্টম’ প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিরূপ মন্তব্য করে ভারতীয় গণমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিলেন মাওরা। ইনস্টাগ্রামে সবসময় তাকে সক্রিয় দেখা যায়। বর্তমানে ইসলামাবাদের ইউনিভার্সিটি কলেজে এলএলবি পড়ছেন তিনি। বলিউডে একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে নায়ক হর্ষবর্ধনের সঙ্গে মাওরার ভালো বোঝাপড়া গড়ে উঠেছে। এ প্রসঙ্গে পাকিস্তানি এই নায়িকা বলেন, ‘আমি দারুণ খোলামেলা মনের সহজ সরল মেয়ে, ‘সনম তেরি কসম’-এর নায়িকা সারুর মতো। হর্ষের সঙ্গে আমার ইদানীংকার বোঝাপড়াটা বেশ ভালো। তার অনেককিছুই আমি বুঝে ফেলি, সেও আমারটা বোঝে। আজকাল সে আমাকে ‘রাজকন্যা’ বলে ডাকে। এটাকে দারুণ একটি কমপ্লিমেন্ট বিবেচনা করছি, আমারও খুব ভালো লাগে তার মুখে ‘রাজকন্যা’ সম্বোধনটি।’