ধর্মীয় স্বাধীনতা আমেরিকানদের ‘প্রথম স্বাধীনতা’: বার্নিকাট

 
বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেছেন, ‘‘ধর্মীয় স্বাধীনতা আমেরিকান জীবনের অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ যা আমাদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হওয়ার সময় থেকেই ছিল।  আদতে, অনেক ইউরোপীয় ব্যক্তি ও পরিবার ধর্মীয় নির্যাতন থেকে বাঁচার জন্য পালিয়ে আমেরিকায় এসে বসতি স্থাপন করেছিল। এটা মোটেও আশ্চর্যজনক নয় যে এই মৌলিক অধিকারটি ‘প্রথম স্বাধীনতা’ হিসেবে আমাদের সংবিধানের ‘বিল অফ রাইটস’-এ সন্নিবেশিত রয়েছে।’’
 
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন। বার্নিকাট বলেন, ‘বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে আমেরিকার গল্পগুলো সবার সাথে ভাগ করে নেয়ার সুযোগ রয়েছে আমার। এর মধ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে প্রতিক্রিয়া জানানো।’
 
উদাহরণ হিসেবে তিনি তুলে ধরেন, ‘‘আল-কায়েদা বা আইএসআইএল-এর হামলার পর আমি প্রায়ই আমেরিকান মুসলমানদের উদ্বেগের কথা শুনতে পাই তাদের অধিকার সম্পর্কে। আমি সুস্পষ্ট করে বলতে চাই: মুসলমানদের বিরুদ্ধে সহিংসতা অথবা বৈষম্য আমেরিকান নীতির পরিপন্থী এবং গ্রহণযোগ্য নয়।  এই নীতি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ছিল এবং থাকবে।  এই বছরের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ওবামা যেমনটি বলেছিলেন, ‘আমাদের দেশের জন্ম থেকেই ইসলাম এর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে।  মুসলিম আমেরিকানরাও এর বাইরে নয়।’’
 
ওই বার্তায় বলা হয়, ‘‘ধর্মীয় স্বাধীনতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে সব ধর্মের মানুষ কোনো প্রকার ধর্মীয় বৈষম্য ছাড়া সমাজের সব কিছুতে অংশগ্রহণ করতে পারবে।  ধর্মীয় বহুত্ববাদ একটি আমেরিকান মূল্যবোধ ও ঐতিহ্য যা কেবল ধর্মীয় বৈচিত্র্যের প্রতি ‘সহনশীল’ করে তোলে তাই নয়, পাশাপাশি একটি জাতীয় সম্পদ হিসেবেও একে আলিঙ্গন করে নেয় এবং বিভিন্ন ধর্মবিশবাসীদের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরির সুযোগ করে দেয়। প্রতি দিন আমাদের দেশের প্রতিটি রাজ্যে, বৈচিত্র্যময় গোষ্ঠির খ্রিষ্টান, ইহুদি, হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ এবং অন্যান্যরা দারিদ্র্য ও বৈষম্য মোকাবেলা করতে আমেরিকান হিসেবে আসে, পুনর্বাসিত হয় এবং অত্যাচার থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের সাহায্য করে। তাদের এ সকল কাজ যুক্তরাষ্ট্রের সিল-এ খোদাই করা আমাদের জাতীয় স্লোগান ‘অনেকের মাঝেও একাত্ম’-এরই প্রতিফলন ঘটায়।’’
 

বার্তায় আরো বলা হয়, ‘‘ক্যালিফোর্নিয়ার সান বার্নারডিনোতে সামপ্রতিক হওয়া হামলার পর প্রেসিডেন্ট ওবামা জাতির উদ্দেশ্যে তার ভাষণে সুস্পষ্ট করে বলেন, ‘আইএসআইএল ইসলামের হয়ে কথা বলে না।  তারা অপরাধী, খুনী ও হন্তারক সংস্কৃতির অংশ... এবং সারা বিশ্বের মুসলমানদের যেমন দায়িত্ব রয়েছে বিপথে চালিত হওয়া ধ্যান-ধারণা যা চরমপন্থার দিকে নিয়ে যায় তা প্রত্যাখ্যান করা তেমনি সব ধর্ম বিশ্বাসের আমেরিকানদেরও দায়িত্ব বৈষম্য প্রত্যাখ্যান করা। ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে আমরা কাকে আমাদের দেশে প্রবেশ করতে দেব এ ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ধারণা প্রত্যাখ্যান করা আমাদের দায়িত্ব।  আমেরিকান মুসলমানদের সাথে ভিন্ন আচরণ করতে হবে এই ধরনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা আমাদের দায়িত্ব।  কারণ আমরা যখন ঐ পথে হাঁটি তখন আমরা হেরে যাই।’’