আমির খান, শাহরুখ খান ও করণ জোহরের পর অসহিষ্ণুতা এবং বাক-স্বাধীনতা নিয়ে এবার সরব হলেন ‘পিকে’র পরিচালক রাজকুমার হিরানি। এক সাক্ষাৎকারে তাকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি তার দেশে বাক-স্বাধীনতার অভাব বোধ করছেন কি না। এর উত্তরে ‘থ্রি এডিয়টস’র নির্মাতা জানান, মুখ খোলার ব্যাপারে ইদানীং অনেক বেশি সাবধানী হয়ে গিয়েছেন তিনি।
হিরানি জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে ভারতে চলচ্চিত্র-নির্মাতারাই শুধু নন, বেশির ভাগ মানুষই কথা বলতে গিয়ে সাবধানতা অবলম্বন করছেন। কারণ, প্রত্যেকের মধ্যেই একটা ভয় কাজ করছে। তাদের কথা কী ভাববে উদ্ধৃত হবে, কীভাবে সেই কথা ব্যবহৃত হবে, তা নিয়ে শঙ্কিত থাকছেন সবাই। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় কীভাবে সেই উক্তি ব্যবহৃত হবে, তা নিয়েও চিন্তিত থাকছেন তারা।
হিরানি আরও জানান, বি-টাউন ব্যক্তিত্বদের উক্তি নিয়ে বিদ্বেষের পারদ চড়েছে। এই পারস্পরিক ঘৃণার পরিবেশকে তিনি বরদাস্ত করতে পারছেন না। কোন উক্তির প্রতিক্রিয়ায় কী উপচে উঠবে, তা বলা কঠিন হয়ে গিয়েছে। কথোপকথনের সমতা এদেশে প্রায় বিপর্যস্ত। এমন অবস্থা এখানে যে, প্রত্যেকেই নিজের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপানোর উদ্দেশ্যে বলির পাঁঠা খোঁজেন। সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ সেখান থেকেই বাড়ে।
‘মুন্না ভাই এমবিবিএস’ এর এই নির্মাতা জানান, ‘পিকে’ মুক্তির সময়েও বেশ কিছু মানুষ ‘প্রতিবাদ’ করতে পথে নেমেছিলেন। এর দরকারই ছিল না।
সব শেষে হিরানি জানান, এক্ষেত্রে সাংবাদিকদের দায়িত্ব রয়েছে। বিদ্বেষের বীজকে তারাই রুখতে পারেন।