জিকা ভাইরাসের বিরুদ্ধে একজোট ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্র

জিকা ভাইরাসের টিকা আবিষ্কারে একটি উচ্চ পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় কার্যক্রম শুরু করতে একমত হয়েছে ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্র। আমেরিকা মহাদেশে এ ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং এটা মাইক্রোসেফালি রোগের জন্য দায়ী। 
 
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফ ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা শুক্রবার জিকা ভাইরাস নিয়ে তাদের ‘অভিন্ন উদ্বেগ’ নিয়ে আলোচনা করেন।  হোয়াইট হাউস জানায়, ভাইরাসটি ঠেকাতে আরও আধুনিক প্রতিষেধক আবিষ্কার ও প্রযুক্তি ব্যবহারে নিজেদের জ্ঞান ও উন্নত গবেষণাকে কাজে লাগাতে এবং কার্যক্রম জোরদারে সমন্বিত প্রচেষ্টা গ্রহণের ব্যাপারে নেতৃবৃন্দ একমত হয়েছেন।  তারা আরো ব্যাপকভাবে সংক্রামক ব্যাধি মোকাবেলায় জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সক্ষমতাকে অব্যাহত অগ্রাধিকার দেয়ার ব্যাপারেও সম্মত হয়েছেন।
 
রুসেফের কার্যালয় জানায়, দ্বিপক্ষীয় গ্রুপ টিকা তৈরি ও রোগনিরাময় সংক্রান্ত বিষয়ের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করবে। ডেঙ্গুর প্রতিষেধক নিয়ে ব্রাজিল’স বুতানতান ইনস্টিটিউট অব বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ এবং ইউএস ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ যেভাবে সমঝোতার ভিত্তিতে কাজ করেছে তার ওপর ভিত্তি করেই জিকা ভাইরাসের প্রতিষেধক নিয়ে কাজ করবে ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্র। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জিকা ভাইরাস সহজলভ্য হতে আরো কয়েক বছর লেগে যেতে পারে।
 
ল্যাটিন আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়ছে জিকা ভাইরাস। এটি শিশুদের মস্তিষ্কে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। জিকা ভাইরাসবাহী মশা নিধনে রুসেফ দুই লাখ ২০ হাজার সেনা নিয়োগ করেছেন ব্রাজিলে। সে দেশে গত কয়েক বছরে ছোট মাথা নিয়ে বা ত্রুটি নিয়ে জন্মানো শিশুর সংখ্যা বেড়ে গেছে। তবে এটি জিকা ভাইরাসের কারণেই হচ্ছে কি না, তা নিয়ে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জিকা ভাইরাসের কারণে অনেক সময় স্নায়বিক বৈকল্য, দুর্বলতা ও পক্ষাঘাতও হতে পারে।
 
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) গত বৃহস্পতিবার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, আমেরিকা মহাদেশে ৩০-৪০ লাখ লোক জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। বিশ্ব সংস্থাটি বলছে, ভাইরাসটি ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং এই আশঙ্কায় ‘জরুরি দল’ গঠন করা হচ্ছে। এর আগেই ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়া জিকা ভাইরাস নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে জরুরি পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছিলেন একদল মার্কিন চিকিৎসাবিজ্ঞানী। এএফপি।