মুহাম্মদ দিদারুল আলম
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
জাত-পাতের ঊর্ধ্বে যে প্রেম, অনেক সময় তার পরাজয় ঘটে গোঁড়ামির কাছে। সমাজের নানা সংস্কার ও বাঁধা-বিপত্তির কারণে শেষ পর্যন্ত ছিন্ন হয় হূদয়ের বন্ধন। ‘কন্যাদান’ নাটকটিতে সেই হূদয়ের বন্ধন ছিন্ন হওয়ারই গল্প।
গত ১০ মার্চ সন্ধ্যা ৭টায় চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মঞ্চমুকুট নাট্যগোষ্ঠীর প্রযোজনায় প্রদর্শিত হয় আন্তন চেখভের বিয়ে নাটকের নবনির্মাণ ‘কন্যাদান’। এটি মঞ্চমুকুট নাট্যগোষ্ঠীর ১৯তম প্রযোজনা এবং ৪০তম মঞ্চায়ন।
কন্যাদান নাটকে সমাজের অচলায়তনের চিরচেনা চেহারা দেখতে পায় দর্শকরা। জাত-পাত ও সম্প্রদায়গত বৈষম্যের কারণে পুতুলের প্রেম পরিণতি পায় না। নিজের প্রেম ত্যাগ করে তাকে মেনে নিতে হয় নিজ সম্প্রদায়ের যৌতুকলোভী পুরুষকে। এভাবে প্রচলিত সংস্কার ও মানবিক হূদয়াবেগের মধ্যে চলতে থাকে দ্বন্দ্ব।
নাটকে দেখা যায়, আধুনিক চিন্তা ও ধ্যান-ধারণার মেয়ে পুতুল ভালোবাসে অন্য গোত্রের পুরুষকে। কিন্তু গোত্রে মিল না থাকায় পুতুলের পরিবার মেনে নেয় না তাকে। পুতুলের বাবা অবনী মেয়ের ভবিষ্যতের সুরক্ষার কথা ভেবে ভবতোষ নামের নিজ গোত্রের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক করেন। কিন্তু বরপক্ষ চেয়ে বসে মোটা অঙ্কের যৌতুক। তখন পুতুলের মা হিরন্ময়ী নানা কৌশল অবলম্বন করে এড়ানোর চেষ্টা করেন অযৌক্তিক যৌতুকের দাবি। কিন্তু সফল হন না তিনি। শেষ পর্যন্ত বরের পণের দাবি মেনে নিয়ে হিরন্ময়ী ও অবনী বাবু নিজেদের মেয়ে পুতুলকে সম্প্রদান করেন।
নাটকটির নির্দেশনা ও আলোক পরিকল্পনায় জুয়েল ধর, সম্পাদনা ও মঞ্চসজ্জায় রূপেশ কান্তি দে তপু, আবহসঙ্গীত মঈন উদ্দীন কোহেল এবং পোশাক পরিকল্পনায় রয়েছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তা।
নাটকটিতে অভিনয় করেন হিরন্ময়ী চরিত্রে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তা, অবনী চরিত্রে আশরাফুল করিম, ভবতোষ চরিত্রে রূপেশ কান্তি দে ও পুতুল চরিত্রে ফারজানা শারমিন। নাটকের অন্যান্য চরিত্রে ও নেপথ্যে ছিলেন শেখ আনিস, সৌমিত্র সেন লিটন, আশরাফুল করিম সৗৈরভ, পহেলী দে, প্লাবন ব্যানার্জি, নাজমুন নাহার শিপা, বিজয় চক্রবর্তী, মো. মোহাই মেনুল ইসলাম, সনজিত গুপ্ত শাওন, শহীদ খান, সুমন শীল, রিকু মুহুরী, কোহেল, সাফা মারওয়া খুশবু ও মিশন আচার্য্য।