ইউরোপে ১০ হাজারেরও বেশি শিশু নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছে ইউরোপিয়ান পুলিশ অফিস ইউরোপোল। রোববার গণমাধ্যমে এ কথা জানায় তারা।
ইউরোপোলের আশঙ্কা নিখোঁজ শিশুর অনেকেই পাচারকারী কিংবা প্রতারকের হাতে পড়তে পারেন। গত ১৮ থেকে ২৪ মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এই হিসেব করা হয়েছে বলে কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে নিশ্চিত করেছে ইউরোপোল। ইউরোপোল জানিয়েছে, বিভিন্ন দেশ থেকে এসব শিশু ইউরোপে আসার পর বিভিন্ন দেশের কর্তৃপক্ষের কাছে শরণার্থী হিসেবে নিবন্ধন করে। এরপরই তারা নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে। শিশু ও কিশোরেরা বিভিন্ন অপরাধী চক্রের দ্বারা যৌন নিপীড়ন ও দাসত্বের শিকার হচ্ছে বলেও সতর্ক করে দিয়েছে তারা।
বিভিন্ন অপরাধী চক্রের খপ্পরে পড়ে ইউরোপে শরণার্থী শিশু ও কিশোরেরা নিরুদ্দেশ হয়ে যাচ্ছে বলে আগে থেকেই অনুমান করা হয়েছিল। কিন্তু ইউরোপজুড়ে কত শিশু এমন ঘটনার শিকার হয়েছে, সে বিষয়ে এই প্রথম ইউরোপোল তথ্য দিল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম অবজারভারকে দেয়া সাক্ষাতকারে সংস্থাটির চিফ অফ স্টাফ ব্রায়ান ডোনাল্ড বলেন, শিশুদের বর্তমান প্রতিকূল অবস্থার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি। তিনি বলেন, এটা বলা অযৌক্তিক হবে না যে আমরা ১০ হাজারের বেশি শিশুর খোঁজ করছি। তাদের সবাই অপরাধীদের খপ্পরে পড়েছে, তা নয়। কাউকে কাউকে হয়তো পরিবারের সদস্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা কোথায় আছে, আমরা সেটা জানি না।
শুধু ইতালিতেই ৫ হাজার শিশু নিখোঁজ বলেও জানান তিনি। ডোনাল্ড বলেন, অভিবাসীদের স্রোত আসার পরেই ইউরোপে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়েছে। ইউরোপোলের বরাত দিয়ে অবজারভার জানায়, অভিবাসীদের ইউরোপে নিয়ে এসে যৌনদাসী হিসেবে বিক্রি করছে কিছু পাচারকারী। এদিকে দেশত্যাগের সময় অনেক শিশুই পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পরিবারহীন সেসব শিশুদের আশ্রয় দিতে চেয়েছে যুক্তরাজ্য। আল-জাজিরা।