মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০১৬

আইওয়া ককাসের আগে প্রচারণায় ব্যস্ত মনোনয়ন প্রত্যাশীরা

যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যের ককাসে আজ দুই প্রধান রাজনৈতিক দল রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট সমর্থকেরা তাদের নিজ নিজ দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর প্রাথমিক নির্বাচন সম্পন্ন করবেন। তাই প্রার্থীরা এখন ভোটারদের টানতে শেষ চেষ্টা চালাচ্ছেন।
 
রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ডেমোক্র্যাট হিলারি ক্লিনটন উভয়ে নির্বাচনের প্রচারে নিজ নিজ দলের শীর্ষে রয়েছেন। তবে সোমবারের নির্বাচনে কোন প্রার্থী বিজয়ী হচ্ছেন তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ‘ককাস’ ও ‘প্রাইমারি’ নামে পরিচিত প্রাক-নির্বাচনী ভোটের মাধ্যমে ভোটাররা নিজেদের ‘ডেলিগেট’ বাছাই সম্পন্ন করবেন। এ বছর জুলাই মাসে দুই দলের ভিন্ন ভিন্ন জাতীয় সম্মেলনে এই ডেলিগেটদের ভোটেই দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। দেশের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যেই এই প্রাক-নির্বাচনী ভোট হবে, আইওয়া দিয়ে সে প্রক্রিয়া শুরু, সে কারণে আইওয়া ‘ককাসের’ গুরুত্ব রয়েছে।
 
প্রভাবশালী রিপাবলিকান মার্কো রুবিও, ব্যবসায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রক্ষণশীল টেড ক্রুজের মধ্যে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। ট্রাম্পের প্রতি ২৮ শতাংশ ভোটার, ক্রুজের প্রতি ২৩ শতাংশ ও সিনেটর মার্কো রুবিও’র প্রতি ১৫ শতাংশ ভোটারের সমর্থন রয়েছে। রিপাবলিকানদের মধ্যে বিলিয়নিয়ার ক্যাসিনো ব্যবসায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প সব হিসাব উল্টে দিয়ে এক নম্বরে রয়েছেন। দলের নেতাদের বিশ্বাস, এই ব্যক্তি যদি শেষ পর্যন্ত দলের মনোনয়ন পান, তাহলে নভেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবি ঠেকানো অসম্ভব হবে। ট্রাম্প শুধু যে হিস্পানিক ও মুসলিম অভিবাসীদের খেপিয়ে তুলেছেন তা-ই নয়, দলের সব প্রচলিত নীতি-আদর্শের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। 
 
ডেমোক্র্যাটিক দলের পক্ষে অবস্থা এক রকম জটিল। তিন মাস আগেও সবাই নিশ্চিত ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বিপুল জনসমর্থন নিয়ে নিজ দলের মনোনয়ন ছিনিয়ে নেবেন। কিন্তু বাস্তবে সে কথা সত্য প্রমাণিত হয়নি। সারা দেশে হিলারির সমর্থন ৫০ শতাংশের ঊর্ধ্বে ওঠেনি। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও হিলারিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন ভারমন্ট থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। প্রায় ৭৫ বছর বয়স্ক এই রাজনীতিক নিজেকে কোনো রাখঢাক ছাড়াই ‘গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক’ হিসেবে পরিচয় করাতে ভালোবাসেন। এএফপি।