‘যেদিন আমার নাটক দর্শকদের আর ভালো লাগবে না সেদিন আর অভিনয় করবো না’ : তাহসান

অভিনয় ও সঙ্গীত দুই মাধ্যমেই সক্রিয় তাহসান খান। নাটকে নিয়মিত না হলেও বিশেষ দিবসের নাটকগুলোতে দেখা যায় তাকে। তবে রোমান্টিক চরিত্রের গণ্ডিতেই আটকে আছেন তিনি। এবার ভালোবাসা দিবসেও রোমান্টিক চরিত্রেই দেখা যাবে তাকে। নাটকের এই প্রসঙ্গ, গান ও মিউজিক ভিডিও’র বিষয় নিয়ে কথা বললেন

 
বিনোদন প্রতিদিনের সাথে
 
বর্তমান ব্যস্ততা—
 
এখন ভালোবাসা দিবসের নাটক ও নাটকের গানের কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছি। এরমধ্যে টেলিভিশনের জন্য দুটি নাটক ও ইউটিউবের জন্য একটি নাটকে অভিনয় করছি। আর চারটি খণ্ড নাটকের গানের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় যাচ্ছে। এছাড়া আমার পরবর্তী অ্যালবামের কাজের প্রস্তুতি চলছে।
 
তাহসান কোন জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভর করছে, সঙ্গীত না অভিনয়?
 
আমি আমার দর্শক বা শ্রোতাপ্রিয়তা নিয়ে সেভাবে ভাগ করে চিন্তা করি না। দর্শক বা শ্রোতারা যেমন আমার এই দুটি বিষয়কেই পছন্দ করেন ঠিক তেমনি আমি নিজেও তা উপভোগ করি। যেদিন আমার নাটক দর্শকদের আর ভালো লাগবে না সেদিন আর অভিনয় করবো না।
 
আপনাকে নাটকে সব সময় রোমান্টিক চরিত্রে দেখা যায়। একই ধাঁচের চরিত্রে কাজ করতে একঘেঁয়েমি লাগে না?
 
হ্যাঁ, এটা ঠিক নাটকে আমাকে সব সময় রোমান্টিক চরিত্রে দেখা যায়। তবে আমি যে নাটকগুলোতে অভিনয় করেছি সেগুলোতে কিন্তু রোমান্টিকতার বাইরেও অভিনয় করেছি। কিন্তু রোমান্টিক চরিত্রেই দর্শক সাড়া বেশি পেয়েছি। এছাড়া আমার কাছেও সেটাই ভালো মনে হয়েছে। সেই বিবেচনায় আমি রোমান্টিক চরিত্রেই অভিনয় করছি।
 
আপনার দৃষ্টিতে সঙ্গীতের বর্তমান অবস্থা কেমন?
 
আমাদের সঙ্গীতের অবস্থা মাঝে খুব খারাপের দিকে চলে গিয়েছিল। সে অবস্থা থেকে এখন ধীরে ধীরে ভালোর দিকে যাচ্ছে। এখন গানের মাধ্যমে শিল্পীরা অল্প পরিসরে হলেও আর্থিক সুবিধাটা পাচ্ছেন। যদিও তা একেবারেই অনলাইন নির্ভর। এর বাইরে একটা নতুন গান বা একটা অ্যালবাম থেকে তেমন কোনো আর্থিক সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না। কেননা, এখন অ্যালবাম তথা সিডি বিক্রি হয় না। তাই শিল্পীদের অনলাইন ও স্টেজ শো’র ওপরেই নির্ভর করে চলতে হচ্ছে।
 
অনলাইন থেকে সঙ্গীতশিল্পীদের আয়ের নির্ভরযোগ্য জায়গাটা কি এখন তৈরি হয়েছে?
 
ধীরে ধীরে একটা নির্ভরযোগ্য জায়গা তৈরি হচ্ছে। আমাদের ভার্চুয়াল জায়গাটা যত উন্নতি হবে এই পরিসরটাও উন্নতি হবে। এখন বিকল্প অনেক মাধ্যমে সঙ্গীতশিল্পীরা উপার্জন করতে পারছেন। এরমধ্যে ইউটিউব এখন শিল্পীদের জন্য ভালো একটি মাধ্যম। তবে এর জন্য একজন শিল্পীকে মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করে ইউটিউবে আপলোড করতে হচ্ছে। আর সেই ভিডিওর হিটের ওপর নির্ভর করে ইউটিউব কর্তৃপক্ষ ওই শিল্পীকে অর্থ প্রদান করছেন। এই সুবিধাটা সব শিল্পীরা পাচ্ছেন না। যারা মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করতে পারছেন ও এরমধ্যে যাদের মিউজিক ভিডিও ভালো হিট হচ্ছে শুধুমাত্র তারাই এই সুবিধাটা পাচ্ছেন।
 
তাহলে যারা শুধু অডিও গান প্রকাশ করছেন বা মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করতে পারছেন না তাদের পথটা কি?
 
মাঝে শিল্পীদের এমন একটা সময় পার করতে হয়েছে যখন গানের মাধ্যমে কোনো উপায়েই উপার্জনের পথই ছিল না। এখন তো ইউটিউবের মাধ্যমে একটা পথ তৈরি হয়েছে। যদিও সেটা শুধুই ভিডিও নির্ভর, তবে অনলাইন থেকে ফ্রি ডাউনলোড নিয়ন্ত্রণ করা গেলে অডিও গানের জন্যও আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করা যাবে। এছাড়া মুঠোফোন প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে খুব শিগগিরই একটা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে শুনেছি। যেখানে অডিও গানের আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।