ইউরোপে ১০ হাজার শরণার্থী শিশু নিখোঁজ

অভিভাবকহীন অন্তত ১০ হাজার শরণার্থী শিশু ইউরোপে পৌঁছার পর নিখোঁজ রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অপরাধবিষয়ক গোয়েন্দা সংস্থা ইউরোপোল এ তথ্য জানিয়েছে। সূত্র- বিবিসি, আল-জাজিরা ও রয়টার্স।
 
ইউরোপোলের প্রধান ব্রায়ান ডোনাল্ড জানিয়েছেন, হাজার হাজার শরনার্থী শিশু ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর তাদের আর হদিস মিলছে না। কেবল ইতালিতেই ৫ হাজার শিশু নিখোঁজ রয়েছে। এ ছাড়া সুইডেনে খোঁজ নেই আরো এক হাজার শিশুর। এদিকে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্মকর্তারা বলছেন, ‘হারিয়ে গেছে’ শিশুরা।
 
ডোনাল্ড জানান, ইউরোপে শরণার্থীদের যে ঢল নামে, তা অবৈধভাবে ব্যবহারের জন্য ২০১৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে ‘অপরাধীচক্র গড়ে ওঠে’। শিশুদের কেউ সেই অপরাধীচক্রের হাতে পড়েছে কি না সেটাই দেখার বিষয়।
 
ব্রায়ান ডোনাল্ড আরও জানান, হয়তো সংঘবদ্ধ পাচারকারীদের কবলে পড়েছে অসহায় এই শিশুদের অনেকেই। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এসব শিশু পাচারচক্রের খপ্পরে পড়েছে, যাদের অবৈধ যৌনকাজে এবং দাস হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
 
IMG0
 
এদিকে শিশুবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন জানায়,  শুধু ২০১৫ সালেই ইউরোপে প্রায় ২৬ হাজার শরণার্থী শিশু এসেছে। এছাড়া যে ১০ লাখেরও বেশি শরণার্থী গত বছর ইউরোপে প্রবেশ করেছে তাদের ২৭ শতাংশই শিশু ও কিশোর। ইউরোপে প্রবেশের পর থেকেই তারা অদৃশ্য হয়ে যায়।
 
সেভ দ্য সিলড্রেনসহ অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থা মনে করে, যেসব শিশু অভিভাবক বা পরিবারের বড়দের ছাড়া ইউরোপে পাড়ি দিয়েছে, তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে ছিল এবং আছে। এ ছাড়া অনেক শিশু তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হতে পারে- এই আশঙ্কায় লুকিয়ে বেড়ায়। এসময় তারা পাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়ে যেতে পারে।
 
এদিকে শরনার্থী সংকটের এ বিষয়টি সামনে আসার পর উদ্বেগ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও শরণার্থীবিষয়ক সংস্থাগুলো। উধাও শিশুদের খুঁজে বের করার চাপ বাড়ছে।
 
গত বছর সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পৌঁছায় ১০ লাখের বেশি শরণার্থী ও অভিবাসী। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক সহিংসতা বিশেষ করে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ ও আইএসের সহিংসতায় কারণে আশ্রয়ের সন্ধানে ইউরোপে পাড়ি দিয়েছে অনেকে।