নেত্রকোনার তাহের-ননীর ফাঁসির আদেশ

নেত্রকোনোর আতাউর রহমান ননী ও ওবায়দুল হক তাহেরের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির আদেশ দিয়েছে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
 
আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার পর বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করে। 
 
গত বছরের ৩ মার্চ এই দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। তাঁদের বিরুদ্ধে নেত্রকোনায় হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠনের ছয়টি অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে ৪টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। ১ ও ২ নং অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়। ৩ ও ৪ নং অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়েছে। ৪ ও ৬ নং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এই দুইটি অভিযোগ থেকে খালাস দেয়া হয়েছে।
 
২০১৫ সালের ৫ এপ্রিল তাঁদের বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য পেশ ও সাক্ষ্য গ্রহণ শুরুর মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ২৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। তবে আসামিপক্ষ কোনো সাক্ষী হাজির করতে পারেননি।
 
আসামি ওবায়দুল হক তাহেরের বাড়ি নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলায় এবং আতাউর রহমান ননীর বাড়ি কেন্দুয়া উপজেলায়। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০১৪ সালের ১২ আগস্ট নেত্রকোনা পুলিশ এ দুই আসামিকে গ্রেফতার করে। 
 
জানা গেছে, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় এ দুই আসামি বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীকে সহযোগিতা করতে গঠিত রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেন। মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য তাঁরা ‘কুখ্যাত রাজাকার’ হিসেবে পরিচিতি পান।