রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন তাহের-ননী

 
মুক্তিযুদ্ধকালে যুদ্ধাপরাধের দায়ে নেত্রকোণার দুই রাজাকার মো. ওবায়দুল হক ওরফে আবু তাহের ও আতাউর রহমান ননীর ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন তাদের আইনজীবী। মঙ্গলবার রায়ের পর আইনজীবী গাজী এমএইচ তামিম বলেন, 'ট্রাইব্যুনাল যে রায় দিয়েছেন, তাতে উনারা সংক্ষুব্ধ হয়েছেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে উনারা সুপ্রিম কোর্টের আপিল করবেন।'
 
আপিলে তারা 'নির্দোষ' প্রমাণিত হয়ে খালাস পাবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন এই আইনজীবী। বিচারপতি আনোয়ারুল হক নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যে রায় দিয়েছে তাতে প্রসিকিউশনের আনা ছয়টি অভিযোগের মধ্যে চারটিতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন একাত্তরের এ দুই রাজাকার সদস্য। তাদের ফাঁসির রায় এসেছে হত্যা ও ধর্ষণের দুটি ঘটনায়।
 
গাজী তামিম বলেন, 'যে চার অভিযোগে তাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে, সবগুলোতে তারা খালাস পাওয়ার যোগ্য। ১৯৭১ সালে আতাউর রহমান ননী অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। একজন অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীর পক্ষে এতো বড় জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকা একেবারেই অস্বাভাবিক বলে আমরা মনে করি। আরেকজন (তাহের) ডিগ্রির ছাত্র ছিলেন। একজন সাক্ষীর বয়স তখন ছিল এক বছর, অন্যজনের বয়স তিন বছর ছিল। নেত্রকোণায় অনেক মুক্তিযোদ্ধা, অনেক বয়স্ক লোক ছিল। তাদের না এনে প্রসিকিউশন এই রকম মাইনরদের এনে সাক্ষী বানিয়েছে।'
 
প্রসিকিউশনের অভিযোগপত্রে বলা হয়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তাহের ছিলেন নেজামী ইসলামী পার্টির স্থানীয় নেতা। চার দশক পরে যুদ্ধাপরাধের দায়ে গ্রেপ্তার হওয়ার সময় বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন তিনি। তাহের ও ননী একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীকে সহযোগিতা করতে গঠিত রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেন।
 
সে সময় নেত্রকোণা জেলা সদর ও বারহাট্টা থানাসহ বিভিন্ন এলাকায় তারা মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য তারা 'কুখ্যাত রাজাকার' হিসেবে পরিচিতি পান বলে এ মামলার বিচারে উঠে এসেছে।
 
আসামিপক্ষের সাফাই সাক্ষী না থাকার বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে গাজী তামিম বলেন, 'প্রসিকিউশন যে সব সাক্ষীর মাধ্যমে মামলা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে, ডিফেন্স মনে করেছে, এই সাক্ষ্যের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডের মতো কিছু হবে না। এ কারণেই আমরা এ ধরনের সাবমিশন করেছি। আমরা সাফাই সাক্ষী দেইনি, কারণ আমরা মনে করেছি, প্রসিকিউশন কোনোভাবেই এ মামলা প্রমাণ করতে পারবে না।'
 
নিয়ম অনুযায়ী এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ পাবেন তাহের ও ননী। বিডি নিউজ।