বঞ্চিত পুল শিক্ষকদের নিয়োগ দেয়ার নির্দেশ

 
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে উত্তীর্ণ আড়াই হাজার পুল শিক্ষকদের নিয়োগ দিতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে নিয়োগ না দেয়া পর্যন্ত নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের উপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।
 
বুধবার বিচারপিত তারিকুল হাকিম ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ পৃথক পৃথক রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে এই আদেশ দেন।
 
রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী শেখ মোহম্মদ মোরশেদ বলেন, ৭২টি রিট মামলায় আজ রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে প্রায় আড়াইহাজার স্কুল শিক্ষক রিট আবদেনকারী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। হাইকোর্টের এই রায়ের ফলে যেসব পুল শিক্ষক রিট আবেদন করেছেন তাদের নিয়োগ না দেয়া পর্যন্ত নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে পারবে না মন্ত্রণালয়। 
 
২০১১ সালের আগস্ট মাসে পুল শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সরকার। ঐ বিজ্ঞপ্তির লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় ২৭ হাজার ৭২০ জন উর্ত্তীণ হন।  এর মধ্যে ১২ হাজার ৭০১ জনকে সরাসরি শূন্য পদে নিয়োগ দান করা হয়। ১৫ হাজার ১৯ জন পুল শিক্ষক নিয়োগ না দিয়ে ঝুলিয়ে রাখে। এর কিছুদিন পর সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে। যেখানে বলা হয়, শিক্ষকগণ শতকরা ১০ ভাগ হারে শূন্য পদে ফিরে যাবেন। কিন্তু এই শর্তকে উপেক্ষা করে দুই বছর পর আরো একটি নীতিমালা তৈরি করা হয়। এতে শিক্ষকরা তাদের ভবিষ্যত নিয়ে সন্দিহান হেয়ে পড়েন।
 
ঐ নীতিমালায় বলা হয়, প্রতি ছয় মাসের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন। প্রতি মাসে ছয় হাজার টাকা করে সম্মানি পাবেন। একদিন অনুপস্থিত থাকলে ২০০ টাকা সম্মানী কর্তন করা হবে। তাদের নিয়োগ হবে সাময়িক শূন্যপদের ভিত্তিতে। এসব স্কুল শিক্ষকদের নিয়োগ না দিয়ে নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন আড়াই হাজার পুল শিক্ষক।
 
রিট আবেদনকারীদের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী আমিরুল ইসলাম ও শেখ মোহম্মদ মোরশেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এম আমাতুর করিম।