চিকিৎসাধীন অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুর হলে রোগীর স্বজনরা কর্তব্যরত ডাক্তারদের লাঞ্ছিত করেন। এ ঘটনায় পাঁচ দফা দাবীতে হাসপাতালে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট পালন করছে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা।
ইন্টার্র্নি চিকিৎসকরা অভিযোগ করে বলেন, মঙ্গলবার (১২ মার্চ) ভোরে হৃদরোগ বিভাগে রহিমা খাতুন নামে এক রোগীকে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এরপর রোগীর স্বজনরা কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. হালিমা ও ডা. আলেয়াকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। পরে তারা চিকিৎসক পরিষদের কার্যালয়ে আসবাবপত্র ভাংচুর করে।
চিকিৎসকদের দাবি, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতাল ক্যাম্পাসে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, জরুরি বিভাগ ও হোস্টেলে নিরাপত্তা বাড়ানো এবং চিকিৎসা বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা।
এই ঘটনায় রহিমা খাতুনের নাতনি সালমা আলী বলেন, তার দাদি মঙ্গলবার ভোরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে ভর্তি করা হয়। কিন্তু কোনো চিকিৎসককে সেখানে পাওয়া যায়নি। এ সময় ডিউটি রুমে থাকা দুইজন নারী ইন্টার্ন চিকিৎসককে বারবার ডেকে চিকিৎসা দেওয়ার অনুরোধ করার পরেও তারা আসেনি। এভাবে দেড় ঘণ্টা কার্ডিওলজি বিভাগে বিনা চিকিৎসায় পড়েছিলেন তার দাদি। পরে তিনি মারা যান। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় দুই চিকিৎসক তাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। পরে তারা দাদির মৃতদেহ নিয়ে বাড়িতে চলে আসে। তারা কার্যালয় ভাংচুর বা হামলা করেন নাই বলে দাবি করেন।
আরো পড়ুন: ৩৭তম বিসিএস এর নন-ক্যাডার ৫৭৮ জনকে নিয়োগের সুপারিশ
হাসপাতালের পরিচালক ডা. অজয় রায় জানান, দাবি বাস্তবায়ন করার জন্য আন্দোলনকারীদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখতে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ইন্টার্র্নি চিকিৎসক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. আবরাবার জিসান জানান, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।
ইত্তেফাক/অনি