লড়াইয়ে হার মেনে ইন্দোনেশিয়ার বৃক্ষমানবের মৃত্যু

কয়েকদিন ধরেই বাংলাদেশে আলোচনায় ‘বৃক্ষ মানব’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তি। বিরল এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিত্সার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন চিকিত্সকরা। পৃথিবীর মাত্র তিনজনই মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে, জানা নেই কোনো স্থায়ী কার্যকরী চিকিৎসা।
 
এরই মাঝে ‍এই রোগেই দীর্ঘদিন লড়াই করে মারা গেলেন ইন্দোনেশিয়ার বৃক্ষমানব। ডেডে কসওয়ারা নামের ৪২ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি গত শনিবারই হাসপাতালের বিছানায় শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।
 
গত তিনমাস ধরেই ডেডে হাসপাতালে লড়াই করছিলেন। কয়েক দশক ধরেই এই রোগে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। কয়েক দফা অস্ত্রোপচার করেও থামানো সম্ভব হয়নি এই মরণব্যাধিকে।
 
আর একটা সময় সে নিজেই হাল ছেড়ে দেয় বলে জানায় হাসপাতালের নার্স। তিনি বলেন, যখন কোনোকিছুই সফল হচ্ছিলো না তখন ডেডে ধূমপান শুরু করেন এবং বাঁচার আশা ছেড়ে দেন। অনেকেই তাকে ছেড়ে চলে যায় ‘অভিশপ্ত’ বলে। চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনও সম্ভব হচ্ছিল না তার।
 
এদিকে বাংলাদেশে এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিটির রক্ত এবং চামড়ার নমুনা আগামী সপ্তাহের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণাগারে পাঠানো সম্ভব হবে বলে চিকিত্সকরা আশাবাদী। এর পাশাপাশি বাংলাদেশেও তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা হবে। উভয় পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মূল চিকিত্সা শুরু হবে।
 
চিকিত্সকরা বলেছেন, আবুল বাজানদার নামের ২৫ বছরের এই যুবক বিশ্বে তৃতীয় ব্যক্তি, যিনি এ ধরনের বিরল রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি গত প্রায় এক দশক যাবত এই রোগে ভুগছেন। এর ফলে তার দুই হাত এবং পায়ের কিছু অংশ বিকৃত হয়ে অনেকটা গাছের শেকড়ের মতো রূপ নিয়েছে।
 
আবুল বাজানদারের সুস্থতার বিষয়ে চিকিত্সকরা আশাবাদী। অন্যদিকে নিজের সুস্থতার ব্যাপারেও আত্নবিশ্বাসী আবুল। ডেইলি মেইল