আমরা বড় বিজয় অর্জন করেছি: অ্যাসাঞ্জ

উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে স্বাধীনভাবে চলাফেরার অনুমতি দেয়া উচিত বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের প্যানেল। শুক্রবার তাদের রায়ে এই কথা জানায় বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
 
এর কয়েক ঘণ্টা পর পূর্ব লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে ভিডিও কনফারেন্সে হাজির হন অস্ট্রেলীয় নাগরিক অ্যাসাঞ্জ, যিনি ধর্ষণের অভিযোগে সুইডেনে প্রত্যার্পণ এড়াতে ২০১২ সাল থেকে লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসে অবস্থান করছেন।
 
তিনি বলেন, 'আমরা আজ সত্যিই এক বড় বিজয় অর্জন করেছি, যা আমার মুখে হাসি ফিরিয়ে দিয়েছে। ... এখন জাতিসংঘের এই রায় বাস্তবায়নের বিষয়টি সুইডেন ও যুক্তরাজ্যের দায়িত্ব।'
 
যৌন হয়রানির একটি মামলায় জেরার জন্য সুইডেনে তার হস্তান্তর ঠেকাতে ২০১২ সালে লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসে আশ্রয় নেন অ্যাসাঞ্জ। দূতাবাস থেকে বের হলেই তাকে গ্রেপ্তার করার পরোয়ানা জারি থাকায় অ্যাসাঞ্জ ২০১৪ সালে তাকে 'ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখার' অভিযোগ জানিয়েছিলেন জাতিসংঘে।
 
 
এর মধ্যে দূতাবাসে থাকা অবস্থায় ২০১৪ সালের মাঝামাঝিতে ফুসফুসের সমস্যা ও হৃদরোগে আক্রান্ত হলেও সেখান থেকে বের হননি তিনি। অ্যাসাঞ্জের আহ্বানেই ২০১৪ সালে জাতিসংঘ প্যানেল বিষয়টির তদন্ত শুরু করে।
 
তবে জাতিসংঘ প্যানেলের মতো অ্যাসাঞ্জের পক্ষে ইকুয়েডরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিকার্ডো পাটিনো বলেছেন, আসাঞ্জকে অবশ্যই মুক্তি দিতে হবে। তার ব্যাপারে ইকুয়েডর পরবর্তী পদক্ষেপ বিচার-বিবেচনা করে দেখছে।
 
জাতিসংঘের ওই ওয়ার্কিং গ্রুপের বক্তব্য মেনে নেওয়ার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা যে যুক্তরাজ্যের নেই, তা মনে করিয়ে দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ড বলেছেন, অ্যাসাঞ্জ চাইলে যে কোনো সময় দূতাবাস থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন। তবে তাকে সুইডেনে বিচারের মুখোমুখি হতেই হবে। সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স